সম্পাদকীয়

জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী ধর্মঘট নিরুৎসাহিত করুন

দাবি আদায় করার সর্বশেষ যৌক্তিক পন্থা হলো কর্মবিরতি পালন। কিন্তু আমাদের দেশে কথায় কথায় ধর্মঘট করে জনসাধারণকে জিম্মি করা হয়। শনিবার নৌ-শ্রমিকদের ধর্মঘটে লঞ্চ বন্ধ থাকার কথা প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে। এতে  বরিশাল, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার নৌপথের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন বলে খবরে প্রকাশ।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে গত শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শুরু হওয়া ধর্মঘটে সমুদ্রবন্দরগুলোয় জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ ব্যাহত হয়। ধর্মঘট আহ্বানের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মাথায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও ক্ষতির পরিমাণ কম নয়।   

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। সহযোগী একটি দৈনিকের খবরে বলা হয়, শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে এক দিনেই সোয়া আট কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। এ ক্ষতি গুনতে হয় দেশি-বিদেশি জাহাজ পরিচালনাকারী ও পণ্য আমদানিকারকদের। এ আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও আমদানি পণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল কারখানায় নেওয়া এবং বাজারজাত করতে যে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সমুদ্রগামী জাহাজ অলস বসে থাকার জন্য দেওয়া ক্ষতিপূরণ বিদেশি মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে আমদানিকারকদের। এ ক্ষতি পণ্য আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করবেন তারা। কর্মবিরতি প্রত্যাহার হলেও শেষ পর্যন্ত বিড়ম্বনায় পড়বেন ভোক্তারাই।

বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা বড় জাহাজগুলো থেকে নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা প্রতিদিন গড়ে নির্ধারিত পরিমাণ পণ্য খালাস করার শর্তে জাহাজ ভাড়া নেন। সময় বেশি লাগলে জরিমানা গুনতে হয় তাদের। যেমন বন্দরে আসা বড় জাহাজের দৈনিক ভাড়া পড়ে ১২ হাজার ডলার। জাহাজ অলস বসে থাকলেও ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ পরিচালনাকারী বা আমদানিকারকদের জরিমানা গুনতে হয়। নৌযান শ্রমিকরা ভালো করেই জানেন, বন্দরে পণ্য খালাস-বোঝাই বন্ধ থাকলে দেশের কেমন ক্ষতি হয়। এটি জেনেও তারা দাবি আদায়ে কর্মবিরতির মতো কর্মসূচি নিয়েছেন। যখন তখন হরতাল ধর্মঘট এখন একটি সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক দিন আগে সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে অঘোষিত কর্মসূচি পালন করেন পরিবহন শ্রমিকরা। তারা রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।  অবশ্য নৌ-শ্রমিকদের কিছু দাবি যৌক্তিক ও ন্যায্য। কিন্তু সব দাবি পূরণ করতে রাষ্ট্রের সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

আমরা মনে করি, দাবি ন্যায্য হলে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সেগুলো আদায়ের চেষ্টা করবেন সংক্ষুব্ধ কিংবা বঞ্চিতরা। জনভোগান্তি সৃষ্টি করে যখন-তখন অচল করে দেওয়ার প্রবৃত্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো শৈথিল্যে জনবিরোধী মতলববাজরা প্রশ্রয় পাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..