দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

জনবল সংকটে স্থবির চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতর

মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম: মূল্যায়ন ও ছাড়পত্র শাখার উপপরিচালকের একমাত্র পদটিই শূন্য। প্রচার শাখারও একই অবস্থা। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, ড্রাফট্সম্যান, উচ্চমান সহকারী এমনকি ক্যাশিয়ারের পদেও কোনো জনবল নেই। এই চিত্র পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের। চার ভাগের এক ভাগ জনবল দিয়ে চলছে সংস্থাটি।

একই অবস্থা চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়েও। উপপরিচালকের একমাত্র পদটিই শূন্য এখানে। অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে এই কার্যালয়টি। জনবল সংকটে পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগর ও অঞ্চল কার্যালয়ের এখন স্থবির অবস্থা। পরিবেশ রক্ষার কার্যালয় দুটি চলছে জোড়াতালি দিয়ে। ফলে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম।

জনবল সংকটের কারণে যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তিতে লাগছে দীর্ঘ সময়। এতে ক্ষুণœ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান দুটির ভাবমূর্তি। জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে হালনাগাদ তথ্য দেয় না পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম। জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানিয়েও মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া পায়নি কার্যালয় দুটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান দুটি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। জনবলের অভাবে শিল্পকলকারখানার যেমন মনিটর হচ্ছে না, তেমননি অবৈধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগর ও অঞ্চল কার্যালয়ের ৪৬ জনের জনবল কাঠামোর বিপরীতে ২৯টি পদই খালি। আর কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন। চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের ৩৭ জনের জনবলের বিপরীতে খালি পদের সংখ্যা ২৬টি। আর কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের ৯ জনের জনবল কাঠামোর বিপরীতে খালি পদের সংখ্যা চারটি ও কর্মরত আছেন পাঁচজন। মহানগর কার্যালয়ের খালি পদগুলোর মধ্যে গাড়িচালকের শূন্য পদ দুটি, এমএলএসএ চারটি, প্রসেস সার্ভার একটি, উপপরিচালক একটি, সহকারী পরিচালক একটি, পরিদর্শক একটি, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা একটি, ক্যাশিয়ার একটি, ড্রাফসম্যান একটি, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর একটি, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর একটি, সিনিয়র টেকনিয়ান একটি, উচ্চমান সহকারী একটি, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক একটি, স্টোরকিপার একটি, নৈশপ্রহরী একটি ও ঝাড়–দার একটি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের খালি পদগুলোর মধ্যে উপপরিচালক (প্রশাসন) একটি, সহকারী পরিচালক দুটি ও অফিস সহায়ক একটি। 

দুটি প্রতিষ্ঠানে উপপরিচালকের দুটি পদ খালি না থাকায় দূষণ ও পরিবেশ রক্ষার মূল কাজগুলো পিছিয়ে যাচ্ছে। আর ড্রাফট্সম্যান, উচ্চমান সহকারীসহ অন্যান্য পদে কেউ না থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য ঠিকমতো সংগ্রহ করতে পারছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

সম্প্রতি ঢাকায় বদলি হয়ে যাওয়া পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে আমরা নাগরিক সেবা পুরোপুরি দিতে পারছি না। আজকে এক জায়গা পরিদর্শনে গেলে কালকে আরেক জায়গায় যেতে হয়। অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। জনগণকে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এতে পরিবেশ অধিদফতরের ভাবমূর্তি আরও নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান বলেন, ‘পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রামে জনবল সংকট রয়েছে। তবে যে জনবল আছে, তা দিয়েও অনেক কিছু করা যায়, কিন্তু তারা কিছুই করছে না।’

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মো. আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘কম জনবল দিয়ে কাজ করতে কে চাইবে বলুন? শুধু পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগরই নয়, সারা বাংলাদেশেই পরিবেশ অধিদফতরে জনবল সংকট রয়েছে। আমরা চার ভাগের এক ভাগ জনবল দিয়ে কাজ করছি। বিষয়টি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। এছাড়া নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি। জনবল সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয় অবগত আছে।’

চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘জেলা অফিসগুলোতে কোনো জনবলই নেই। কোনো অফিস সহকারী পরিচালক চালাচ্ছেন, কোনো অফিস পরিদর্শক চালাচ্ছেন। গাড়ি নেই। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা আছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..