প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জনশক্তি রপ্তানিতে সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হোক

‘বাংলাদেশ থেকে পাঁচ লাখ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকদের মনে আশার সঞ্চার করবে। খবরে জানা যায়, আগামী এক বছরের মধ্যে দুই লাখ কর্মী নেবে দেশটি। চলতি মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো যাবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, সমঝোতা অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচন করার অধিকার মালয়েশিয়ার। যেহেতু তারা লোক নেবে, সেহেতু অধিকার তাদের। রিক্রুটিং এজেন্টরা যারা ব্যবসা করতে চায়, তারা নিজেরাই নিজের ব্যবসা খুঁজবে। মালয়েশিয়ার মন্ত্রী প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন, শূন্য অভিবাসন ব্যয় নিশ্চিত করার জন্য তারা কাজ করবেন। তবে কোনো এজেন্সি বা নিয়োগকর্তা আইন ভঙ্গ করলে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আমাদের মনে আছে, সংঘবদ্ধ চক্রের অনৈতিকতার অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদ্যমান পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো বন্ধের ঘোষণা দেয় মালয়েশিয়ার। ২০১৬ সালে মালয়েশিয়া যেতে সিস্টেম পারমোহনান পেকিরজা এজিংÑএসপিপিএ (যা ‘জিটুজি প্লাস’ নামে পরিচিত) চালু করা হয়। তাতে দেশটিতে শ্রমিক পাঠাতে বাংলাদেশের ১০টি এজেন্সি নির্ধারণ করে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। কিন্তু ওই ১০টি এজেন্সির বিরুদ্ধে নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। প্রমাণিত হয় সংঘবদ্ধ চক্রের ব্যবসায় শ্রমিকরা প্রতারিত হয়েছে, রাজস্ববঞ্চিত হয়েছে উভয় দেশই। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।

আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। দেশের অভ্যন্তরে বিপুল কর্মক্ষম বেকার ও ছদ্মবেকারের শতভাগ কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। আমাদের বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। এখন বাজারটি ধরে রাখতে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে বলে আমরা মনে করি। এ বাজার ধরে রাখতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভ‚মিকাও কম নয়। তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চললে বাজার থাকবে, তাদের ব্যবসা হবে। তারা অবৈধভাবে বিদেশ যেতে সহায়তাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করলেই দেশটির আস্থা ধরে রাখা সম্ভব। জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে শ্রমবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ রয়েছে। তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করলে না বাজারটি ক্রমেই বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে, আরও বেশি জনশক্তি নেবে দেশটি।

ব্যবসাটি সব এজেন্টের উম্মুক্ত করা যায় কি না, তাও বিবেচনা করতে হবে। সেটি হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং জনশক্তি রপ্তানির খরচও কমবে। এর সুফল পাবেন নিরীহ কর্মীরা, যাদের অনেকেই ভিটেমাটি বিক্রি করে কিংবা উচ্চসুদে ঋণ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার খরচ জোগাড় করেন। কোনো দেশে জনশক্তি রপ্তানির নতুন খবরে একশ্রেণির জনশক্তি রপ্তনিকারক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নানা লোভ দেখিয়ে নিরীহ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। নতুন করে কোনো অঘটনের কারণে যেন বাজারটি বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনশক্তি রপ্তানির প্রতিটি পর্যায়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।