সম্পাদকীয়

জবাবদিহির আওতায় আনুন ঋণদানে জড়িতদেরও

ঋণ ও অর্থ কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত আমাদের ব্যাংক খাত। খেলাপি ঋণ ক্রমেই বাড়ছে, এটি সবার জানা। ঋণ পেতে আবেদনকারীকে ব্যাংকে স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হয়। ঋণ অনেকদিন অনাদায়ী থাকলে কিংবা ঋণগ্রহীতা পালিয়ে গেলে কিংবা খেলাপি গেলে বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলা হয়। ওই সময় ওঠে আসে বন্ধকি সম্পত্তির প্রকৃত দামের চেয়ে অনেক বেশি ঋণ দিয়ে ফেলেছে ব্যাংক। ঋণ পেতে ঋণগ্রহীতা জমির দাম বাড়িয়ে দেখান। ১০ লাখ টাকা জমির দাম দেখানো হয় কোটি টাকা। এক্ষেত্রে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়। বন্ধকি সম্পত্তির মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে অতিমূল্যায়ন বাড়ছে। আবার অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাও ভালো করে যাচাই না করেই ঋণদানে ভূমিকা রাখেন। এতে ঋণখেলাপি হওয়াসহ বড় কেলেঙ্কারি সংঘটিত হচ্ছে। উদ্যোক্তার বন্ধকি দেওয়ার সামর্থ্যকে প্রায়ই ঋণ পাওয়ার বড় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত বন্ধকি সম্পত্তি ঋণের নিরাপত্তা বিধান করলেও তা ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তা দেয় না। কারণ বন্ধকি সম্পত্তির যথাযথ মূল্যায়ন নাও হতে পারে। কোনো উদোক্তার প্রস্তাবিত প্রকল্পের বাস্তবায়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলে এবং ব্যাংক ৪০: ৬০ অনুপাতে ঋণ দিলে উদ্যোক্তাকে ৬০ লাখ টাকার সম্পত্তি বা বিনিয়োগ দেখাতে হবে। অর্থাৎ অবশিষ্ট ৪০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ হিসেবে দেবে। অনেক উদ্যোক্তা ব্যাংক কর্মকর্তা বা মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ করে ২০ লাখ টাকার সম্পত্তিকে ৬০ লাখ টাকা দেখান।
ব্যাংক কর্মকর্তা, মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং ঋণের আবেদনকারী ‘সমঝোতা’ করলে ঋণ প্রক্রিয়ায় গলদ থাকতে পারে। ব্যাংক খাতে সংঘটিত অর্থ কেলেঙ্কারির পেছনে এমন সমঝোতাই দায়ী বলে প্রমাণ হয়েছে। সম্ভবত এ অবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে, সম্পত্তি অতিমূল্যায়ন সমস্যা দূরীকরণে জবাবদিহির আওতায় আসছে মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান। গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ সম্পত্তি জামানত হিসেবে দেওয়া আছে, প্রকৃতপক্ষে এত সম্পত্তি তাদের নেই। এই পরিমাণ সম্পত্তি মাপলে কিংবা দাম যাচাই করলে দেখা যাবে বাংলাদেশের অর্ধেক জমিই ব্যাংকের কাছে জামানত হিসেবে রয়েছে।
মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান জবাবদিহির আওতায় এলে বন্ধকি সম্পত্তি অতিমূল্যায়ন বন্ধ হবে। কিন্তু জবাবদিহি যাদের কাছে করতে হবে, তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। এখানেও যদি সমঝোতা হয়, তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে। শুধু মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান কেন, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মীকেও জবাদদিহির আওতায় আনতে হবে। এদের সহায়তা না পেলে বাইরে থেকে কারও পক্ষে ঋণে অনিয়ম করা সম্ভব নয়। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে ঋণ দান প্রক্রিয়ায় জড়িত সবার।

সর্বশেষ..