জবাবদিহি নেই বলে সর্বত্র অস্থিরতা: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহামারির মধ্যে সমাজে অস্থিরতার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জবাবদিহির অভাবকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল এক আলোচনা সভায় দেশের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে সরকারকে দায়ী করে বক্তব্য দেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘খবরের কাগজ খুললেই দেখবেন ভয়াবহ সব খুন, ভয়াবহ সব হত্যার ঘটনা। আজকের পত্রিকায় যে ঘটনাটি এসেছে, মেয়ে মা-বাবা-বোনকে হত্যা করেছে। এগুলো হচ্ছে একটা আর্থসামাজিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। এটার কারণ হচ্ছে, আজকে দেশের মধ্যে গণতন্ত্র নেই। যেহেতু দেশে গণতন্ত্র নেই, যেহেতু দেশে সেই সমাজ ব্যবস্থাটা নেই, সেহেতু দেশে জবাবদিহিটা নেই।’

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত টিকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যারা স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে জড়িত, টিকার সঙ্গে জড়িত, এরা সবাই দুর্নীতিতে জড়িত হয়ে গেছে।’

‘মেগা প্রকল্পে এখন গণলুট চলছে’ বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘১০ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট হয়ে যাচ্ছে ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট। এভাবে মেগা প্রজেক্টটাকে তারা টাকা বানানোর প্রজেক্ট হিসেবে তৈরি করে নিয়েছে।’

অনুন্নয়ন খাতে অর্থ বরাদ্দের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেখবেন যে স্কুল-মাদরাসায় টাকা দিয়েছে বড় বড় গেট তৈরি করতে। এই মুহূর্তে তো গেট তৈরি করার চেয়ে ক্লাসরুম তৈরি করা বেশি দরকার। সেটা তারা করছে না।’

কৃষি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৃষকরা আজকে কঠিন সমস্যায় জর্জর। তারা উৎপাদন করছে, কিন্তু তাদের পণ্য বাজারজাতকরণের কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না। জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপিই এ অবস্থা বদলাতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ অন্ধকার চতুর্দিকে। এর মধ্যে জিয়াউর রহমান খুব প্রাসঙ্গিক। তার আদর্শ যদি আমরা চর্চা করি, তাকে যদি আমরা সামনে নিয়ে আসি, তাহলে আমরা আলো দেখতে পাব।’

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া পরিষদের আয়োজনে ‘সমাজ উন্নয়নে মৃত্যুঞ্জয়ী জিয়া’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা হয়।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আসুন আমরা শুভ দিনের প্রতীক্ষা করব না শুধু, শুভ দিনকে এগিয়ে আনার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্ব ও যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুল হাই শিকদার, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে গোলাম হাফিজ কেনেডী, জামাল উদ্দিন রুনু, লুৎফুর রহমান, তোজাম্মেল হোসেন, হাসনাত আলী, মাসুদুল হাসান খান, কামরুল হাসান, আব্দুল কুদ্দুস, মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জিয়া পরিষদের মহাসচিব এমতাজ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।


সর্বশেষ..