প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জমজমাট জয়িতার প্যাভিলিয়ন

দেশের নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে জয়িতা ফাউন্ডেশন একটি বড় প্যাভিলিয়ন নিয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায়। অংশ নেওয়া অনেক স্টলে বেচাকেনা শুরু না হলেও জয়িতায় জমে উঠেছে মেলা। ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নে ২৯টি দোকানে উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছেন। এর কয়েকটিতে রয়েছে হাতে ও তাঁতে তৈরি পোশাক। রয়েছে কুটির শিল্পপণ্যও। অন্যান্য দোকানে বসানো হয়েছে মণ্ডা-মিঠাই, আচারসহ বিভিন্ন খাবারের আইটেম।

মেলার দ্বিতীয় দিনে জয়িতার স্টলে দেখা যায়, নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিক্রি চলছে। মানিকগঞ্জের উদ্যোক্তা আনোয়ারা বেগমের দোকানে গিয়ে শোনা হলো তার গল্প। আনোয়ারার মেয়ে সীমা শেয়ার বিজকে জানান, মানিকগঞ্জের ‘এসো কিছু করি’ নামে একটি সমিতির উদ্যোক্তা ছিলেন তার মা। ৪৫ জন নারী মিলে ছয় বছর আগে ওই সমিতি করেছিলেন। পরে জয়িতা ফাউন্ডেশনের আহ্বানে আনোয়ারা বেগম ঢাকায় আসেন। রাপা প্লাজায় জয়িতার নির্ধারিত মার্কেটে দোকান চালু করেন। অংশ নেন এবারের বাণিজ্যমেলায়।

জয়িতা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, সারা দেশের নারী উদ্যোক্তার প্রায় ১৭ হাজার সমিতির মধ্যে সমন্বয় করে জয়িতা ফাউন্ডেশন গঠন করেছে সরকার। এ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৮০ উদ্যোক্তাকে রাজধানীর রাপা প্লাজায় দোকান খুলে দিয়েছে। তাদের ২৯ জন মেলায় অংশ নিয়েছেন। আগ্রহীদেরই কেবল মেলায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জয়িতা মূলত নারীদের উদ্যোগগুলোর মধ্য থেকে আয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা করেছে।’

২৪টি স্টলে বুটিকসের পণ্য উঠিয়েছেন উদ্যোক্তারা। পণ্যগুলো হাতে তৈরি। থ্রিপিস, ব্লাউজ, শাড়ি, পাঞ্জাবিসহ গৃহস্থালির নানা উপকরণ রয়েছে সেখানে। এছাড়া নানা রকমের আচার, ঘি, মধু, পিঠা, মোয়া, মুড়ি, কুমড়াবড়িসহ বিভিন্ন শুকনো খাদ্যপণ্য বিক্রি করছে পাঁচ দোকান।

দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, জামদানিসহ বিভিন্ন মূল্যবান কাপড়ে হাতে সেলাই বিচিত্র নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। পাটের জুতা-সেন্ডেল, ব্যাগ, চামড়া ও রেক্সিনের ব্যাগ বিক্রি করছেন অনেকে। মেলায় অংশ নেওয়া এক উদ্যোক্তা জানান, শুরুর দিন থেকেই বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে আশাতীত সাড়া পেয়েছি।

সরকারের সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে জয়িতা। জয়িতা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, সরকার ২০১১ সালে নারীদের আর্থিক কাজে সম্পৃক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে। রাপা প্লাজায় মার্কেট স্থাপনের পাশাপাশি জয়িতার জন্য ঢাকায় এক বিঘা জমিও কেনা হয়েছে। ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে ওই জমিতে বড় ভবন নির্মাণ করা হবে।