প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জমেনি খুলনায় পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজার

 

মহসিন হোসেন, খুলনা: খুলনা শহরের পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোয় শীতের পোশাক বিক্রি এখনও জমে ওঠেনি। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ ব্যবসা জমজমাট হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যা। শীত বাড়লে ব্যবসাও বাড়বে।

হরেক রকম শীতবস্ত্রের সমাহার বসেছে খুলনা শহরের কয়েকটি মার্কেট এবং ফুটপাতে। পুরনো শীতবস্ত্রের গাঁইট খুলে তা আয়রন করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানগুলোয়। শহরের নিকসন মার্কেটে দোকান রয়েছে পাঁচ শতাধিক। এর বেশিরভাগ দোকানেই শীতবস্ত্র হিসেবে শোভা পাচ্ছে বিদেশি পুরোনো জ্যাকেট, কম্বল, চাদর, কার্ডিগান ও সোয়েটার। বাকি দোকানিরা গার্মেন্ট আইটেমের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বিপণি বিতানগুলোয় যারা গরমের সময় গার্মেন্ট আইটেমের ব্যবসা করতেন, তারাও এখন পুরোনো শীতবস্ত্রের ব্যবসা করছেন।

ডাকবাংলো মোড় থেকে ফেরিঘাট মোড় পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কেও বসেছে শীতবস্ত্রের দোকান। এখানে শতাধিক শীত পোশাকের দোকান রয়েছে। সোনালী ব্যাংকের সামনের ফুটপাতের দোকানদার জাবেদ শেয়ার বিজকে জানান, তিনি ১০ বছর ধরে এই ব্যবসা করছেন। খুলনার আবহাওয়ায় এখনও গরম ভাব রয়েছে। দিন ১৫ আগে একটু বেচাকেনা হয়েছিল। সামনে শৈত্যপ্রবাহ এলে আবারও বেচাকেনা ভালো হবে বলে আশা করছি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা বিক্রি হয়। ব্যবসায়ী রবিন জানান, গার্মেন্ট আইটেমের চেয়ে শীতবস্ত্রে লাভ বেশি থাকায় তারা এ সময় শীতবস্ত্রের ব্যবসা করেন। আবার এ মৌসুমে গার্মেন্টের অন্য আইটেম বিক্রি হয় না বললেই চলে। তাই প্রায় সব ব্যবসায়ী ঝুঁকে পড়েন শীতবস্ত্র ব্যবসার দিকে। মার্কেটগুলোয়ও এখন পুরোনো পোশাকের কদর বেশি।

ব্যবসায়ী রিজভী জানান, তিন বছর ধরে ফুটপাতে ব্যবসা করছি। আগে একটি দোকানে কর্মচারী ছিলেন। বর্তমানে নিজেই ব্যবসা করছি। গতবারের তুলনায় এখনও বেচাকেনা তেমন শুরু হয়নি। তবে আশা আছে কয়েক দিন পরই বেচাকেনা বাড়বে।

দোকানদার নাসির উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। ১৯৮৮ সালে খুলনায় এসেছেন কাজের সন্ধানে। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফুটপাতে ব্যবসা করেন। দুই ছেলে এক মেয়ের সংসার তার। দোকানে কর্মচারী আছেন চারজন। বললেন, এখনও শীতের তীব্রতা তেমন পড়েনি। শীত বাড়লে ব্যবসাও বাড়বে। পুরোনো কাপড় কোথা থেকে আনেন জানতে চাইলে নাসির বলেন, এসব চট্টগ্রাম থেকে আনতে হয়। বিদেশি জাহাজে মাল আসে চট্টগ্রামে। সেখান থেকে গাঁইট কিনে আনি আমরা।

জানা গেছে, জ্যাকেটের লটের দাম পড়ে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। সোয়েটারের লটের দাম ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে এসব লটে কি রকম কাপড় থাকবে তা বোঝার কোনো উপায় নেই। কারণ আগে থেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে জ্যাকেট, সোয়েটার, কোর্ট ও কম্বলের লট তৈরি করে রাখা হয়। ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে এখানের ব্যবসায়ীরা ওইসব লট ক্রয় করেন। যেসব ব্যবসায়ীর একার পক্ষে লট কেনা সম্ভব হয় না, তারা দু’তিনজন মিলে লট ক্রয় করে তা ভাগ করে নেন। কেউ কেউ খুলনার পাইকারি বাজার থেকেও শীত পোশাক কিনে ফুটপাতে বিক্রি করেন।

এসব পোশাকের পাশাপাশি রেলওয়ে মার্কেট ও ডাকবাংলো মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের কম্বল। ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা মূল্যের কম্বল রয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এদের কাছ থেকে পোশাক নিয়ে কেউ সড়কের পাশে, আবার কেউ ভ্যানগাড়িতে করে বিক্রি করছেন।

অন্যান্য পণ্যের তুলনায় এখন শীতবস্ত্রের বাজার ভালো বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, আরও এক মাসের মতো এ ব্যবসা চলবে। ব্যবসায়ীরা বলেন, খুলনায় এখনও তীব্র শীত পড়েনি। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ শৈত্যপ্রবাহ হলে শীতবস্ত্র বেচাকেনা বেড়ে যাবে। তখন ফুটপাত ও অভিজাত উভয় মার্কেটেই বেশি বিক্রি হবে।