প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জয়পুরহাটে জোড়াতালিতে চার বেইলি সেতু, ঝুঁকিতে যানবাহন চলাচল

টি এম সেলিম সরোয়ার, জয়পুরহাট : জয়পুরহাট-ক্ষেতলাল-পাকারমাথা এবং কালাই-শালাইপুর-হিলি দিনাজপুর জেলা মহাসড়কের চারটি বেইলি সেতু জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুগুলো পুরনো হওয়ায় এর পাটাতনের লোহার পাতগুলো জং ধরে নষ্ট হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় ফাঁক হয়ে গেছে। সরু ও জরাজীর্ণ এসব বেইলি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ ফাঁকগুলো লোহার পাত দিয়ে মেরামত করা হলেও শত জোড়াতালির লোহার অবকাঠামোগুলো পুরনো হওয়ায় ট্রাকসহ ভারী যানবাহন যেকোনো সময় ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা হতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকে জয়পুরহাট-ক্ষেতলাল-পাকারমাথা জেলা মহাসড়কের তুলশীগঙ্গা নদীর ওপর ৬৮ মিটার খাড়ায় খালের ওপর ২০ মিটার এবং ঘোনাপাড়া খালের ওপর ৩৬ মিটার পৃথক তিনটি বেইলি সেতু নির্মিত হয় ওই সড়কে। সড়কটি জয়পুরহাট শহরের সঙ্গে যোগাযোগের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় শুরুতে এর গুরুত্ব কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে শহরের যানজটের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এ পথের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন জয়পুরহাট-ক্ষেতলাল-পাকারমাথা মহাসড়ক হয়ে বিকল্প এ পথে জেলা শহরে যোগাযোগ রক্ষা করছে এলাকার মানুষ। এ দুটি হাট জেলার সর্ববৃহৎ গরুর হাট। ফলে শনি ও মঙ্গলবার ওই পথে শত শত গরুবোঝায় ট্রাক যাতায়াত করে।

এছাড়া আক্কেলপুর হয়ে নওগাঁ শহরে মালামালসহ ট্রাক যাতায়াত করে জেলার এ মহাসড়কেই।

তিনটি সেতুই জরাজীর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় প্রতিদিনই সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের ওয়েল্ডিং ঝালাইয়েরর মাধ্যমে লোহার পাত জোড়াতালি দিয়ে চলাচল উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।

একইভাবে কালাই-শালাইপুর-হিলি সড়কের ৪৪ মিটার দীর্ঘ সরু বেইলি সেতুর অবস্থাও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকি নিয়ে এ পথেও চলাচল করছে শত শত ভারী ও হালকা যানবাহন।  

জয়পুরহাট-ক্ষেতলাল মহাসড়কের জরাজীর্ণ বেইলি সেতু দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী ক্ষেতলালের ট্রাকচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুর যে অবস্থা তাতে খালি ট্রাক নিয়ে যেতেও ভয় হয়। ট্রাক উঠলেই সেতু দুলতে থাকে’।

স্থানীয় ঘোনাপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিন বলেন, তুলশীগঙ্গা নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯০ সালে। সেতুটি পুরনো হওয়ায় ১০ টনের অধিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে উভয় পাশে সাইনবোর্ড দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু কে শোনে কার কথা। প্রতিদিন ২০-২৫ টনের ট্রাক চলাচল করে এ পথে।

তিনি বলেন, প্রায় সময় ভ্যানের চাকা সেতুর লোহার পাটাতনের ফাঁকে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ও সেতু কাঁপে। বর্তমানে যানবাহনের খুবই চাপ। এ অবস্থায় যেকোনো মুহূর্তে সেতু ভেঙে পড়তে পারে।

ক্ষেতলাল বটতলী বাজারের ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, ‘জরাজীর্ণ বেইলি সেতু নিয়ে আমরা খুবই বিপদে আছি। প্রতিদিন এ পথে আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের ট্রাকই বেশি যাতায়াত করে। কোনো দিন যে সেতু ভেঙে পড়ে তা নিয়ে দুশ্চিন্তাই থাকতে হয়’।

জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের চারটি বেইলি সেতু জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ওইসব বেইলি সেতুর স্থলে নতুন চারটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।