সারা বাংলা

জয়পুরহাটে ডায়রিয়ার প্রকোপ শিশুসহ আক্রান্ত দুই হাজার মানুষ

প্রতিনিধি, জয়পুরহাট: ভাইরাসজনিত কারণে জয়পুরহাটে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। জেলা হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে দুই হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের ৮০ শতাংশই এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় এবং ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে হাসপাতালগুলোর বারান্দায়।

এখনো শীতের প্রভাব কাটেনি উত্তরাঞ্চলের জেলা জয়পুরহাটে। সকাল ১০ থেকে বিকাল পর্যন্ত কিছুটা আরামদায়ক উষ্ণতা থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে আবারও চিরচেনা শীত। এমন আবহাওয়ার কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুরা বমি ও পাতলা পায়খানা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। তাদের প্রায় সবাই পেটের ব্যথায় ভুগছে। ডায়রিয়ার জন্য শুধু জেলা আধুনিক হাসপাতালে আলাদা ২৫ শয্যা থাকলেও গড়ে প্রতিদিন সেখানে ভর্তি হচ্ছে ৬০ রোগী। ফলে বেডের সংকুলান না হওয়ায় অধিকাংশ রোগীকে মেঝেতে নিতে হচ্ছে চিকিৎসা। এত রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তি তার ভাগ্নেকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। তিনি জানান, হঠাৎ জ্বর-সর্দি ও কাশি হওয়ার পর পাতলা পায়খানা শুরু হয়। বাড়িতে কোনো সমাধান না হওয়ায় হাসপাতালে আসতে হয়েছে।

জয়পুরহাট সদরের চকশ্যাম গ্রাম থেকে আসা আশা বেগম জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত তার স্বামীকে বাড়িতে রেখে দু’দিন চিকিৎসা দেয়ার পর কোনো কাজ না হওয়ায় অবশেষে হাসপাতালে এসেছেন। এখানেই তিন দিন ধরে চিকিৎসা চলছে তার।

জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ইনচার্জ নাসিমা সুলতানা বলেন, হাসপাতালে মাত্র আট শয্যার একটি ডায়রিয়া ওয়ার্ড থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৬০ রোগীর স্থান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেইসঙ্গে জনবল কম ও রোগী বেশি হওয়ায় দায়িত্বরত নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ধারণা করছি ভাইরাসজনিত কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। আমরা সবাইকে বলতে চাই, ডায়রিয়া হলে যে অ্যান্টিবায়েটিক সেবন করতে হবে, এমনটা ঠিক নয়। পাতলা পায়খানা হলে বেশি করে স্যালাইন খাবেন। এরপরও যদি ঠিক না হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..