খবর দিনের খবর

জরুরি প্রয়োজনের হলে ওড়না ডেলিভারি ও খেজুর গিফট

র‌্যাবের জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কভিড-১৯ মহামারি রোধে চলমান লকডাউনের দ্বিতীয় দিন সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জরুরি প্রয়োজনের অজুহাতে অপ্রয়োজনীয় কাজে রাস্তায় বের হয়েছেন অনেকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা তল্লাশি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের জেরার মুখে কেউ কেউ স্বীকার করেছেন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়াদির কথা।

গতকাল দুপুরে শাহবাগ মোড়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এমন কিছু অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নজরে আসে।

ওড়না ডেলিভারি দিতে একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের মালিক আওলাদ হোসেন যাচ্ছিলেন নিউমার্কেট এলাকায়। শাহবাগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য উঠে আসে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানতে চাইলে আওলাদ হোসেন বলেন, ‘ওড়না ডেলিভারি দেয়ার জন্য নিউমার্কেট এলাকায় যাচ্ছি। এটি একটি জরুরি কাজ। জরুরি ডেলিভারি। তাই বের হয়েছি।’ বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে জরুরি না হওয়ায় এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয় তাকে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির একটি গাড়িকে থামানোর ইশারা দেন র‌্যাব সদস্যরা। পরবর্তীকালে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ডাক্তারদের জন্য গিফট হিসেবে খেজুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জরুরি ওষুধ সেবায় নিয়োজিত স্টিকার লাগিয়ে চলছিল ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির গাড়িটি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিষয়টি জরুরি কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ বলে মনে না হওয়ায় হয় গাড়িচালককে জরিমানা করা হয়েছে।

রিকশায় করে মুখে গামছা লাগিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন ইউসুফ আলী। র‌্যাব সদস্যরা রিকশা থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই দেখা যায়, পকেটে মাস্ক থাকলেও মুখে গামছা পেঁচিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ওই রিকশা আরোহী বলেন, ‘মাস্ক পড়লে গরম লাগে। তাই গামছা পেঁচিয়ে যাচ্ছিলাম।’ এই বক্তব্য যৌক্তিক না হওয়ায় জরিমানা গুনতে হয় তাকেও।

এ বিষয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘জনসাধারণ আগের তুলনায় বেশি মাস্ক পরে বাইরে বের হচ্ছেন। তবে অনেকে প্রয়োজনীয় কারণ ছাড়া রাস্তায় বের হয়েছেন। অপ্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া জনগণকে সচেতন করতে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।’ করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..