সম্পাদকীয়

জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারদের নিরাপত্তা সামগ্রী দিন

নভেল করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ আমাদের দেশেও বিস্তার লাভ করতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে এ রোগ দেশে দুজনের প্রাণ নিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এসব রোগী পরিচর্যার জন্য চিকিৎসকদের যে ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম দরকার, তা আমাদের নেই। ফলে চিকিৎসকরা কভিড-১৯-এর উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী হাসপাতালে এলে তাদের চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জরুরিভিত্তিতে বিদেশ থেকে ডাক্তারদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসামগ্রী এনে তা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতরণে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করি।

গণমাধ্যমে গতকাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি নোটিস ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষায়িত মাস্ক ছাড়া যেন করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের সংস্পর্শে না যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যাপ্ত মাস্ক নেই। তাই ব্যক্তি-উদ্যোগে তা জোগাড় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ, এক মাসেরও বেশি সময় আগে থেকেই বিভিন্ন মহল সংশ্লিষ্টদের করোনা বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছিল। এমনকি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রয়োজনীয় মাস্ক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম (পিপিই) চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিরাময় কেন্দ্র। তারপর এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। এত দীর্ঘ সময়েও নিরাপত্তা সরঞ্জাম আর উদ্যোগ না নেওয়া হতাশাজনক।

করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে এরই মধ্যে সবাই অবগত হয়েছেন। কাজেই এ বিষয়ে ন্যূনতম অসতর্ক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করি। এরই মধ্যে এ ভাইরাস বিশ্বব্যাপী কেড়ে নিয়েছে প্রায় ১২ হাজার মানুষের প্রাণ। বাংলাদেশেও ভাইরাসটি ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে। কাজেই, আর এক মুহূর্তও দেরি করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য। প্রথমদিকে কম গুরুত্ব দেওয়ায় ইতালির যে ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে, আমরা যেন সেই পরিণতির দিকে এগিয়ে না যাইÑসে বিষয়ে সদা সজাগ থাকতে হবে।

মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। কাজেই এখানে যদি কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ শুরু হয়, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হবে বলেই মনে করি। তবে আশার কথা, দু-একদিনের মধ্যেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেশে আসবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সেটি মাত্র ১০ হাজার। কাজেই আরও বেশি হারে এসব নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানি বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে বেসরকারি খাতকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..