জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আমরা প্রতিনিয়ত ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, পাহাড়ধস, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বজ পাত, দাবানলসহ ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছি। প্রকৃতির ধ্বংসলীলার জন্য দায়ী আমরাই। যার জন্য নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেমন মাটি, পানি, বায়ু দূষিত করা ইত্যাদি আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডগুলো বেশি দায়ী। গবেষকরা বলছেন, বনাঞ্চল বিনষ্ট করা ও বন্য প্রাণী শিকারের ফলে প্রাণী ও তাদের বহন করা জীবাণু ক্রমাগতভাবে মানুষ ও গবাদিপশুর সংস্পর্শে চলে আসছে। মহামারি সৃষ্টির মূল কারণ প্রকৃতি ধ্বংসের বিষয়টিকেই উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, বিশ্বনেতারা ভবিষ্যৎ মহামারি রোধে সাশ্রয়ী ও কার্যকরী কৌশলকে অবহেলা করে চলেছেন। বিশ্বনেতাদের পদক্ষেপের কোথাও প্রকৃতি রক্ষার বিষয়টিকে ঠিকভাবে রাখা হচ্ছে না। ক্ষতি ঠেকাতে বনাঞ্চল রক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ বন্য প্রাণী ব্যবসা বন্ধ, ফার্মের পশুপাখিকে সংক্রমণ থেকে উন্নত সুরক্ষা, বন্য প্রাণী বাজার এলাকায় দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। কভিড-১৯ পুরো প্রকৃতি থেকে আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্বনেতারা পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে দূরে রয়েছেন। মহামারি প্রতিরোধ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে কিছু শুনে থাকলেও এর মূল কারণ ঠেকানোর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে খুব কম কথা শোনা গেছে। তাই প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার ব্যবহার এবং প্রকৃতির বিপরীতে সব কর্মকাণ্ড পরিহার করতে হবে। কালক্ষেপণ না করে বিশ্বের সব দেশকে এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। পৃথিবীতে বসবাস করতে হলে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে বনাঞ্চল বৃদ্ধির বিকল্প নেই এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ব্যাপকহারে বাড়াতে হবে। পরিবেশের সরাসরি নেতিবাচক এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে, বিশ্বের সব মানুষ এক হয়ে আমাদের আবাস্থলকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হবে।

শাকিবুল হাসান

শিক্ষার্থী, বরেন্দ্র কলেজ

রাজশাহী

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..