মত-বিশ্লেষণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ আদায়ে তৎপরতা কাম্য

সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়া ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়া একটি বৈশ্বিক সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকার প্রথম সারিতে বাংলাদেশও রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী হয়েও ক্ষতির শিকার বাংলাদেশ। এ কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করি।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব নিরূপণে চারটি মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়Ñপরিবর্তনের কারণে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, কোথায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি মানুষ কোথায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশটি ক্ষতি মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই এ চারটি মানদণ্ডে কয়েক বছর ধরে জলবায়ুু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ু ঝুঁকির শীর্ষে যে বাংলাদেশ রয়েছে, সোমবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আসিয়ান সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও তা বলেন।

গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনসের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এখন যে গতিতে জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে, তার চেয়ে কম গতিতে তা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্য আমলে নিয়ে ক্ষতির শিকার দেশগুলোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা। গুরুত্ব বিবেচনায় আমাদের সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজিতে জলবায়ুু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমাদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে।

২০০৯ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত দুটি তহবিল বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (বিসিসিটি) ও বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়ান্স ফান্ড (বিসিসিআরএফ) কাজ করছে। এসব তহবিলে আসা অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তহবিলের যথাযথভাবে ব্যবহার না হলে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে গঠিত জাতিসংঘের গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) নামের আরেকটি তহবিল থেকে সরকার প্রায় ৪০০ কোটি টাকা পেয়েছে। কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ওই তহবিল থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই ফান্ডের টাকা আর আসছে না। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কোনো দায় না থাকা সত্ত্বেও বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছি আমরা। আমাদের উচিত ন্যায্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে দর কষাকষি করা এবং তহবিলের অর্থের সদ্ব্যবহার করা।

সর্বশেষ..