জাককানইবিতে ‘নেতাজী-বঙ্গবন্ধু-নজরুল জনচেতনাযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা

প্রতিনিধি, জাককানইবি: চলমান মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নেতাজী-বঙ্গবন্ধু-নজরুল জনচেতনাযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও চেতনার মিল এবং বাংলা ও বাঙ্গালির মুক্তির পথে তাঁদের উজ্জ্বল পদচারণাকে স্মরণ করতেই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় বলে জানান আয়োজক কমিটি।

ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক ড. রাশেদুল আনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য ও ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন।

এসময় উপাচার্য প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু যেমন ব্রিটিশদের থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার মহানায়ক ছিলেন, তেমনি বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক। ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’ নেতাজীর সেই বিখ্যাত উক্তিরই বহিপ্রকাশ ঘটেছে বঙ্গবন্ধুর ‘রক্ত যখন আমি দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশকে স্বাধীন করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ’ উক্তিতে। নজরুলের অসংখ্য কবিতা-গানেও একই চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ‘কারার ওই লৌহ কবাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’, ‘তোমরা ভয় দেখিয়ে করছো শাসন জয় দেখিয়ে নয়, সেই ভয়ের টুটি ধরবো টিপে করবো তারই লয়’ বক্তব্যগুলোও একই কথা বলে।”

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিদ্রোহ ফুটে ওঠেছে নজরুলের চেতনায়। এর বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীতে নেতাজীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর ‘বাংলাদেশ যে বাস্তব হয়ে উঠেছে-এই তথ্যই প্রমাণ করছে যে, নেতাজী বেঁচে আছেন’, ‘নেতাজীর ত্যাগ ও তিতিক্ষার আদর্শ বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের পাথেয়’ এইসব বক্তব্যই প্রমাণ করে নেতাজীর আদর্শে কতটা উজ্জীবিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে ছিলেন বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদের সভাপতি ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক প্রফেসর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সাহাবউদ্দিন, প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক তপন কুমার সরকার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ‘নেতাজী-বঙ্গবন্ধু-নজরুল জনচেতনাযাত্রা’ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য-সচিব আশরাফুল ইসলাম।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১৭০  জন  

সর্বশেষ..