প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জাঙ্ক শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের বেশি ঝোঁক

আগ্রহ নেই মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত বছরে লোকসান দেয়া, উৎপাদন বন্ধ কিংবা বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে পারে না এমন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের বেশি আগ্রহ। পুঁজিবাজারে টানা দরপতনেও বড় কোম্পানির দিকে আগ্রহ নেই বিনিয়োগকারীদের। জাঙ্ক শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা বেশি। ফলে গতকাল প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইসি সূচক বাড়লেও লেনদেনের টাকার পরিমাণ বাড়েনি।

লেনদেনের শুরু থেকেই শেয়ার বিক্রির চাপের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয়ের প্রবণতায় ফিরেছেন। ফলে গতকাল লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টায় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক বেড়েছে ১০৪ পয়েন্ট।

গত  রোববার  নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির এক নির্দেশনায় ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মার্জিন ঋণের হার সীমা ১: ১ করেন। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা ১০০ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ১০০ টাকা মার্জিন ঋণ পাবে। এছাড়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইসিবির মাধ্যমে ব্যাংকের বিনিয়োগকে শেয়ারবাজারে এই প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিটেডের বাইরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ দুই উদ্যোগের ফলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিল পুঁজিবাজার।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনশেষে জাঙ্ক শেয়ারের আধিপত্য বেশি ছিল। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অ্যাপোলো ইস্পাত বেড়েছে ৯ দশমিক ২১ শতাংশ। লেনদেনের শুরুতে দর ছিল ৭ টাকা ৮০ পয়সা; তা বেড়ে দর দাঁড়ায় ৮ টাকা ৩০ পয়সা। ফাইন ফুডের শুরুতে দর ছিল ৩৯ টাকা ৪০ পয়সা আর লেনদেন শেষ হয় ৪২ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ দিনশেষে দর বেড়েছে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। সাভার রিফ্রাক্টরিজরে শুরুতে দর ছিল ১৮৪ টাকা ৯০ পয়সা। ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে দর দাঁড়ায় ১৯৩ টাকা ৩০ পয়সা। দুলামিয়া কটন মিলসের দর ২ টাকা ২০ পয়সা বেড়ে ৫০ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়।

গতকাল প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৬১ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৫ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩২ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩৭৬ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ৩০৯ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে।

ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৬৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল ৬৮২ কোটি ২১ লাখ টাকার।

গতকাল ডিএসইতে ৩৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৪৩টির বা ৯১ দশমিক ২২ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ১৯টির বা ৫ দশমিক ০৫ শতাংশের এবং ১৪টির বা ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটদর অপরিবর্তিত ছিল।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই  ৩৩০ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪০৮ দশমিক ২২ পয়েন্টে। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ২০৮টির, কমেছে ৪৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির দর। সিএসইতে ২৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।