প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জাতিগঠনসহ জাতীয় উন্নতিতে বড় অবদান রাখছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৭তম ভিসি। সাংবাদিকতায় এমএ ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ভারতের মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিনিসোটা ও কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর পেশাগত প্রশিক্ষণ নেন। সাউদার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর একই বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবদুল হাকিম আবির

শেয়ার বিজ: গত ২০ বছরে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কী ধরনের গুণগত পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করেন?

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী শিক্ষাব্যবস্থা ছিল ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা। তখন অন্যসব বিভাগের মতো শিক্ষাব্যবস্থায়ও আমাদের পশ্চিম পাকিস্তানিরা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য যে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তার সেই প্রচেষ্টা স্তিমিত হয়ে পড়ে। ২০১০ সাল পর্যন্ত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কোনো ধরনের শিক্ষানীতি ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবু প্রত্যাশা অনুযায়ী গুণগত পরিবর্তন না হলেও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেক দূর এগিয়েছে।

শেয়ার বিজ: বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি

রেখে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার কতটা উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন?

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: আগেই বলেছি, ১৯৭১ থেকে ২০১০ পর্যন্ত বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কোনো শিক্ষানীতি ছাড়াই পরিচালিত হয়েছে। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে একটি শিক্ষানীতি হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চলছে। এই শিক্ষানীতি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটা আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন হবে। কারণ একটা শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সবসময়ই একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। শিক্ষানীতি করলে এটাকে অন্তত প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ট্রায়াল দিতে হবে।

শেয়ার বিজ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একসময় ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলা হতো। বিশ্ববিদ্যালয় সে ঐতিহ্য ধরে রাখতে কতটা সক্ষম হয়েছে বলে মনে করেন?

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: ১৯২১ সালে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়, তখন স্যার ফিলিপ জে হার্টগ-কে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউটোরিয়াল ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিয়মনীতি অক্সফোর্ডের আদলে তৈরি করেন তিনি। এ কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তখন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো। এছাড়া অক্সফোর্ডের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যগত কোনো মিল নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে জাতি গঠনসহ জাতীয় উন্নতিতে যে অবদান রাখছে, তা দিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সফল হিসেবে অভিহিত করা যায়।

শেয়ার বিজ: পাঁচ বছর পরেই জš§শতবার্ষিকী পালন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেমন দেখতে চান? প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন সম্পর্কে কিছু বলুন…

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাণ। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে আর তার নেতৃত্ব দিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণকারী ব্যক্তিরা এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উঠে এসেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন বলতে হবে জাতি গঠনে তাঁর ভূমিকা। বাঙালি জাতিকে স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ফরাসি দার্শনিক আঁদ্রে মালরো স্বাধীনতার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে বলেছিলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যেটা জাতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবিত ছাত্রের চেয়ে মৃত ছাত্রের সংখ্যাই বেশি।’ এছাড়া ভাষা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান, স্বৈরাচারের পতনসহ সব জাতীয় আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই নেতৃত্ব দিয়েছে।

শেয়ার বিজ: শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই আবাসন সুবিধার বাইরে। আবাসন সংকট নিরসনে কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন?

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যখন যাত্রা শুরু করেছিল, তখন মাত্র ৮-১০ হাজার শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনায় এর অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। ক্রমান্বয়ে এখানকার শিক্ষার্থী যেমন বেড়েছে, তেমনি শিক্ষার্থী অনুপাতে অবকাঠামো চাহিদাও বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামোর কিছু উন্নয়ন হলেও তা কোনো সময়েই ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থী অনুপাতে যথেষ্ট ছিল না। আমরা কিছুদিন আগে ৬২০ কোটি টাকার কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি, যেটা ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আমাদের শিক্ষক-ছাত্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সুবিধা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি কয়েকটি একাডেমিক ভবন নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আবাসনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর অবকাঠামো উন্নয়নে এটাই এযাবৎকালের সর্বোচ্চ বাজেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী পালনের আগে আমরা এ ধরনের আরও কয়েকটি প্রজেক্ট হাতে নেবো, যার ফলে শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধাসহ যাবতীয় চাহিদা পূরণ করা সহজ হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব উন্নয়ন কাজে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরাও সহানুভূতিশীল। শেয়ার বিজের মাধ্যমে তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

শেয়ার বিজ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন বিভাগ চালু হচ্ছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক না থাকা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে এসব বিভাগ চালু কতটা যৌক্তিক?

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: আমাদের কাজ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে আমরা যদি এই সুযোগ নিশ্চিত না করি, তাহলে কারা করবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের সব ধরনের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করার স্বার্থেই আমরা পরিকল্পিতভাবে নতুন কিছু বিভাগ চালু করি।

কিছু কিছু অভিযোগ আসে, যেগুলোর পেছনে যুক্তিও থাকে। কিন্তু এ অভিযোগের ব্যাপারে আমি বলবো, এটি নিতান্তই অজ্ঞতাপ্রসূত। আজ যেসব বড় বিভাগ আছে, সেগুলোও শুরুর সময় ছোট থেকেই শুরু হয়েছে। একটা বিভাগ যখন শুরু হয়, তখন তাতে মাত্র একটি ব্যাচ ভর্তি করানো হয়। একটি ব্যাচ পরিচালনায় যে পরিমাণ অবকাঠামো ও শিক্ষক প্রয়োজন, তার পুরোটাই নতুন বিভাগগুলোতে আছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিবছর নতুন ছাত্র ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে এ বিভাগগুলোর অবকাঠামোও উন্নয়ন হবে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে নতুন বিভাগ চালু করা কখনোই সম্ভব নয়। ছোট থেকেই আমাদের শুরু করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার বিজ: উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা গবেষণা ও গ্রন্থাগারে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটে এ দুটি খাতই অবহেলিত। এ বিষয়ে যদি কিছু বলতেন…

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: এটা খুবই যৌক্তিক প্রশ্ন। আমাদের বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতসহ আরও কয়েকটি খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে পারি না। আমাদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার আছে, সেটি নির্মাণের সময় আমাদের শিক্ষার্থী ছিল সাত-আট হাজার। আর এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় চল্লিশ হাজারের কাছাকাছি। এ অবস্থায় একটি নতুন বহুতলবিশিষ্ট গ্রন্থাগার ছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে এ মুহূর্তে আমরা গ্রন্থাগারটিকে ডিজিটাইজড করার কাজ করছি, যাতে গ্রন্থাগারে না এসেও শিক্ষার্থীরা এর সুযোগ-সুবিধা পায়।

আর গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষকদের মৌলিক চাহিদাগুলো আমরা পূরণ করার চেষ্টা করি। তবে গবেষণার জন্য গবেষকদের যে ধরনের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তার সবটা আমরা সবসময় দিতে পারি না। তারপরও আমাদের আশার জায়গা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু বসে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও সরকারি অনুদানের ঘাটতি থাকলেও আমরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে মিলে গবেষণার কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। বিশেষ করে জাতিসংঘ, ইউনেস্কো, ইউএসএইডসহ আরও যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আছে, সেগুলোর গবেষণা উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের প্রকল্পগুলোতে আমাদের গবেষকরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

শেয়ার বিজ: আগেকার দিনে টিএসসিভিত্তিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে দেশবরেণ্য শিল্পী ও ব্যক্তিত্ব উঠে এসেছেন। গেলো কয়েক বছরে এ হার অনেকটাই কমে এসেছে। এর কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: আমার মনে হয় সেটা থেমে যায়নি; বরং অতীতের চেয়ে আরও বেশি গতিশীল হয়েছে। এখন টিএসসিকেন্দ্রিক ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। এখনকার ছাত্ররা পছন্দ অনুযায়ী অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তুলেছে। তাদের আগ্রহের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নিয়মিত তাদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে আসছে। বলা যায়, টিএসসিকেন্দ্রিক এই সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল দেশের অন্য যে কোনো সাংস্কৃতিক বলয়ের চেয়ে শক্তিশালী ও সফল।

শেয়ার বিজ: দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ সিনেট ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছাড়াই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এ বিষয়ে আপনার

মতামত কী?

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: আমাদের সিনেট যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের আদলে পরিচালিত। এখানে যদি কিছু পদ অপূর্ণাঙ্গ থাকে, তবু সিনেট কার্যকর থাকে। আমার মনে হয়, সিনেট পরিপূর্ণভাবেই চলছে আর ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্র প্রতিনিধি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ডাকসু নির্বাচনের বিষয়টি আমরা খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বিশেষ করে, ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে যদি নিয়মিত ছাত্ররা প্রতিনিধিত্ব করে, তাহলেই ডাকসু নির্বাচন দেওয়াটা আমাদের জন্য সহজ হয়। এছাড়া আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে।

শেয়ার বিজ: বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। সম্প্রতি ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে রীতিনীতি অনুসরণ না করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ সংবলিত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগেই সংবাদ সম্মেলন করে স্পষ্ট করেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটি যে দাবি করেছে, সে আলোকেই প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকদের সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে যারা অভিযোগটি করেছেন, তারা সম্পূর্ণ দলীয় স্বার্থে এ সংকীর্ণতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিতর্কিত করতেই এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালিয়েছে।

শেয়ার বিজ: প্রতিবছরই ভর্তিতে জালিয়াতির অভিযোগে কিছু শিক্ষার্থী গ্রেফতার হলেও এর হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা আছে কি?

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: কিছু জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে এটা সত্য। এক্ষেত্রে যাদের আমরা হাতেনাতে ধরি, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেসব ব্যবস্থা নিতে পারে, যেমনÑভর্তি বাতিল করা, আমরা সে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কিন্তু এ প্রতারণার সঙ্গে যেসব কোচিং সেন্টার জড়িত, যেসব বাইরের লোকজন জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তো বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। আমরা তখন মামলা করি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ এদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা। এক্ষেত্রে তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া ও আদালতের বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর হওয়া উচিত।

শেয়ার বিজ: বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। বর্তমানে জাতীয় উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু অবদান রাখছে বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পাঠক্রম ও কারিকুলাম গ্রহণ করা হয়, সেগুলোতে আমরা সবসময়ই জাতীয় উন্নতি, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি; যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা উচ্চশিক্ষা নিয়ে বের হবে, তাদের মধ্যে এ দেশ সম্পর্কে ও দেশের উন্নয়নকল্পে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা থাকে। আমি মনে করি, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এমন একটি শিক্ষিত শ্রেণি তৈরি করা যারা বাংলাদেশকে চিনতে পারবে, বাংলাদেশকে বুঝতে পারবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করতে পারবে। এই লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে সফলতা অর্জন করেছি, যা বর্তমান জাতীয় উন্নতির প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃষ্টি দিলেই আমরা বুঝতে পারবো।

শেয়ার বিজ: নতুন বছরে ছাত্রসমাজের উদ্দেশে যদি কিছু বলতেন…

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: আমাদের ছাত্রসমাজ আমাদের দেশকে নিয়ে চিন্তা করবে। আমাদের ছাত্রসমাজ এদেশের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করবে। আমি চাই, আমাদের ছাত্রসমাজ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানবে। পাশাপাশি যারা আমাদের ছাত্রসমাজকে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে কাজে লাগায়, তাদের সম্পর্কে জানবে, তাদের বুদ্ধি-বিবেক ও জ্ঞানের লড়াইয়ে হারিয়ে দিয়ে এ দেশকে সমৃদ্ধিশালী সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।

শেয়ার বিজ: আপনাকে ধন্যবাদ।

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: শেয়ার বিজকেও ধন্যবাদ।