প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জাতির সংকট নিরসনে জাতীয় সরকার

জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী: গোড়ার কথা: জাতির সমস্যা উত্তরণে সম্মিলিত উদ্যোগ ১৯৪৮ সালে উর্দু ভাষাকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ঘোষণা করলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা সম্মিলিত আন্দোলন শুরু করে। ১৯৫২ সালে কয়েকজন ছাত্র পুলিশের গুলিতে নিহত হলে মওলানা আবদুল হামিদ খান, ভাসানী গাজীউল হক, অলি আহাদ, ভাষা মতিন, মাহবুবও অন্য ছাত্র নেতাদের পাশে এসে দাঁড়ান। শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারাগারে। আন্দোলনের গতি বাড়ে, বাংলাভাষা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৫৪ সালে ২১ দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানে হক- ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর নেতৃতে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। ২১ দফার অন্যতম শর্ত ছিল নির্বাচনের অন্ততপক্ষে দু’মাস আগে দলীয় সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পদত্যাগ করবেন।

১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা বিবেচনায় আনেন। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনও পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানি সিএসপি (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) দের পরামর্শে প্রস্তুত করেন ৬ দফাÑ পাকিস্তানের সঙ্গে থেকে কনফেডারেশনের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানবাসীর অধিকার আদায়ের সনদ। পাল্টা অবস্থা হিসেবে পাকিস্তানের সামরিক সরকার শেখ মুজিবুর রহমান ও ৩৪ জন পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালে ১৮ জানুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা শুরু করেন। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সম্মিলিত প্রতিবাদ আন্দোলন। সামরিক সরকার ২২ ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯ শেখ মুজিবকে মুক্তি দেন এবং পরের দিন তিনি ডাকসু কর্তৃক ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভ‚ষিত হন। ২ মার্চ ১৯৭১ তারিখে ডাকসু সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব বাংলাদেশের স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন করেন। পরের দিন শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন পল্টন ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের উপস্থিতিতে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেনÑ ‘এই আন্দোলন মুক্তির আন্দোলন, এই আন্দোলন স্বাধীনতার আন্দোলন, সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করুন, সরকারের অন্যায় আচরণ রুখে দাড়ান’ ‘জয় বাংলা, পাকিস্তান জিন্দাবাদ, জয় বাংলা’ বলে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণের সমাপ্তি টানেন। ৯ মার্চ ১৯৭১ মওলানা ভাসানী স্বাধীন পূর্ববাংলা ঘোষণা করেন এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য সব রাজনৈতিক ও ছাত্রদের প্রতি আহŸান জানান।

পাকিস্তানের সামরিক সরকার ২৫ মার্চ শুরু করল ঢাকায় গণহত্যা। সব নেতৃবর্গের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডিস্থ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করেন, তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নেয়া হয়। ২৭ মার্চ ১৯৭১ তারিখে বেঙ্গল রেজিমেন্টের তরুণ মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাজউদ্দীন-সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রবাসী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেন ১০ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে। গঠিত হয় মওলানা ভাসানী, মনিসিংহ, মুজাফফর আহমেদ প্রমুখ নিয়ে সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ।

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় তিনটি ফ্রন্টে-প্রথমত: সিরাজ সিকদার, মান্নান ভ‚ইয়া ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, বংলাদেশের ছাত্র, শ্রমিক, সেনানী, ইপিআর ও পুলিশ ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে দ্বিতীয় ফ্রন্টে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গেরিলা যুদ্ধ করেন। তৃতীয় ফ্রন্ট ছিল বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে লন্ডন থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। শেখ মুজিব ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ পাকিস্তান জেল থেকে মুক্তিলাভ করেন এবং ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ ঢাকা প্রত্যাবর্তন করেন ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানে। ‘রমনা ময়দানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি জিজ্ঞেস করেন, পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের সময় তোরা কোথায় ছিলি’?

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুকে সর্বময় ক্ষমতা দিয়ে সংবিধান প্রণীত হয়। ভারতীয় রক্ষীবাহিনীর কারণে অসংখ্য গুম খুন ও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ও বাকশাল সৃষ্টিতে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হয়। বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছর শাসনামলে মন্ত্রিসভায় কখনও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা হয়নি। বরঞ্চ প্রথম মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গোয়েন্দা বাহিনীর এবিএস সফদর এবং পাকিস্তান পুলিশ বাহিনীর আব্দুর রহিমের সঙ্গে পাকিস্তানের নিবিড় সম্পৃক্ততা থাকা সত্তে¡ও তাদের কাজে নিয়োগের নির্দেশ দেন এবং তিনি একবারও মুজিবনগর পরিদর্শন করেননি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান নায়ক তাজউদ্দীন আহমদকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। কোন মানসিক ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর মনমানসিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল তার গবেষণা প্রয়োজন। তাঁর অবর্তমানে তাজউদ্দীন-সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও এমএজি ওসমানীর স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য সাফল্যকে তিনি কি মেনে নিতে পারেননি?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের ভালোমন্দ

পাঁচটি বড় সফলতা

প্রথমত, দেশের প্রায় সব অঞ্চলে সব বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া। দ্বিতীয়ত, সফলভাবে কভিড মহামারি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাপক টিকা প্রদান। তৃতীয় সফলতা হলো কয়েকটি মেগা প্রজেক্টকে সমাপ্তির পথে নিয়ে যাওয়া, চতুর্থত, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ এবং তার সরকারের আমলে কোনো বিরোধীদলীয় নেতার জীবননাশমূলক আক্রমণ না হওয়া। পঞ্চম সফলতা হলো প্রায় লক্ষাধিক গৃহহীন পরিবারকে বসতবাড়িসহ দুই শতাংশ জমিদান। সঙ্গে বয়োবৃদ্ধ আত্মীয়দের জন্য একটি অতিরিক্ত কামরা থাকা বাঞ্ছনীয় ছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি ভুল ও ব্যর্থতা

গণভবনে থাকা অনেকটা বন্দি জীবনের মতো, নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, অন্য এক্সারসাইজ হয় না : শেখ হাসিনা ওয়াজেদ

এক. বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের তহবিল লুট, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি-১০ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট পদ্মা সেতু ৪০ হাজার কোটিতে শেষ না হওয়া, নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার উন্নতির পরও অব্যাহত কুইক রেন্টাল নির্লিপ্ত দুর্নীতির প্রমাণ। দ্বিগুণ খরচে রূপপুরে রাশিয়ার তত্ত¡াবধানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, সুন্দরবনের রামপালে ভারতের পরামর্শে ও পায়রায় চীনের সহযোগিতায় ক্ষতিকর কয়লা থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন। রাশিয়া থেকে ৬-৭ ডলারে ভ্যাকসিন না কিনে দ্বিগুণ মূল্যে চীন ও অন্য দেশ থেকে কভিড ভ্যাকসিন ক্রয় এবং দেশে নিজস্ব ভ্যাকসিন উৎপাদনে অর্থায়ন না করা দুর্ভাগ্যজনক; দুই. বিএনপি আমলের ক্লিনহার্ট প্রত্যাহার না করে বরঞ্চ অধিকতর ক্ষমতা ও দায়মুক্ত করে র‌্যাব দ্বারা অসংখ্য গুম, খুন ও বিচারবর্হিভ‚ত হত্যা এবং ব্যাপকভাবে নিন্দিত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সরকারের সব সফলতাকে কালিমাময় করেছে। পুলিশ বাহিনী ও আমলাদের মাধ্যমে ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচনে এবং ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে সমাপন করে ভারত ও চীনের চক্রান্তে হাসিনা সরকারের ক্ষমতা দখল করেছেন। সরকার অতি প্রয়োজনীয় ভোজ্যতেল ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। শিক্ষিত বেকার বাড়ছে। বার বার পরামর্শ দেয়া সত্তে¡ও সরকার দুই কোটি দরিদ্র পরিবারে নিয়মিত সাপ্তাহিক রেশনিং ব্যবস্থার প্রবর্তন করেননি; তিন. বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা, মেজর সিনহার হত্যাকারী কক্সবাজারের পুলিশ কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের দায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি চূড়ান্ত না হওয়া, জেনারেল এম এ আজিজের দুই ভাই খুনের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত। তাদের রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, দেশকে মাফিয়া রাষ্ট্রে উপনীত হওয়ার পথ উš§ুক্ত করেছে; চার. (৪) ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মীদের আজগুবি মামলায় অভিযুক্ত করে পুলিশ বাহিনী প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা উৎকোচ আদায়, যৌন নিপীড়ন, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভারদের কারণে প্রতিদিন কয়েক ডজন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, পুলিশ ও স্থানীয় দলীয় নেতাদের ফুটপাতের প্রত্যেক হকার ও খাবার দোকান থেকে প্রতি মাসে ৭-১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়, দেশে খুনখারাবির পাশাপাশি ছাত্রদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে; পাঁচ. বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ লক্ষাধিক রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র ও আলেমদের নামে কয়েক লাখ মামলা দায়ের এবং এখনও তাদের অনেকের জামিন না দেয়া অন্যায় কাজ। বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৪০ লাখ বিচারাধীন মামলার সুরাহা না করে বিচারপতিদের ব্রিটিশ আমলের মতো ৪ মাস ছুটি কাটানো, বহু বেঞ্চ ৯টা থেকে ২টায় শেষ হওয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচন সংক্রান্ত মামলাগুলোর একটিরও নির্বাচন ট্রাইবুনালে মামলার সুরাহা ৪ বছরেও না হওয়া। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে নির্বাচন পদ্ধতিতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছেন। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রæতি সত্তে¡ও মামলা প্রত্যাহার হয়নি। কোর্টে হাজিরার মাধ্যমে অত্যাচার ও ঘুষ বাণিজ্য অব্যাহত আছে; ছয়. যে ভুল বঙ্গবন্ধু বাকশাল সৃষ্টিতে করেছিলেন, তা ভিন্ন মোড়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমলা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর মাধ্যমে চালু রেখেছেন, এমনকি নিজ দলীয় রাজনৈতিক কর্মীদের শাসন বলয়ের বাইরে রেখেছেন; সাত. ওষুধ ও চিকিৎসায় অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত ও পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হয়। ফলে ইতোমধ্যে ৮৬ লাখ মানুষের আর্থিক অবনতি হয়েছে এবং ৩ কোটি মানুষ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যায় না অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে। রাষ্ট্রপতি, অধিকাংশ মন্ত্রী, আমলা ও বড় ব্যবসায়ীরা বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভারত ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা পরামর্শ নিয়েছেন। কার খরচে  নিজের না সরকারের খরচে? প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধ না করে সরকার ভয়ানক ভুল কাজ করেছেন। দেশের বায়ুদূষণের সঙ্গে বিবিধ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ, বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ ও বিকল কিডনি রোগ দ্রুত গতিতে বাড়ছে। নবীন চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপ দুই বছর ঘোষণা দিয়ে কয়েক সপ্তাহ পর তা প্রত্যাহার আপনার অপর একটি ব্যর্থতা; আট. ভারতের প্রতি নতজানু ব্যবহারের কারণে আজও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হওয়া এবং চীনের সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়া; নয়. (৯) ইভিএম (ঊঠগ) নির্বাচনে কারচুপির পথ সুগম করছে, র‌্যাব-পুলিশ ও দলকানা আমলাদের সহযোগিতায় ও নির্বাচন কমিশনের ঠুঁটো জগন্নাথ ভ‚মিকায়। সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর মনে ভয় ঢুকেছে। ভোটে পরাজিত হলে তিনি বর্তমানে বিরোধী দলের প্রতি যেরূপ ব্যবহার করছেন তাকে কয়েকগুণ অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারে; দশ. প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশী ২০০ বিভিন্ন দেশে শ্রমদান করে প্রতি বছর দেশে প্রায় ১৬-১৭ বিলিয়ন ডলার পাঠায়। তাদের বাংলাদেশের বিমান বন্দরে হয়রানি, বাড়িতে পৌঁছার পর স্থানীয় দলীয় চাঁদাবাজ এবং পুলিশের হাতে নিগৃহের ঘটনা এবং বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো তাদের বাংলাদেশী পাসপোর্ট ৮-১০ মাসেও রিনিউ না হওয়া খুবই দুঃখজনক। এসব ঘটনার কারণে কয়েক লাখ দ্বিতীয় প্রজš§ বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞ, একাডেমিক, গবেষক, অধ্যাপক, শিক্ষক, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার প্রভৃতি পেশার লোকজন বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশ নিতে ভয় পান।

সু®ু¤ নির্বাচন ও সুশাসনের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে অন্তর্বর্তীকালীন সর্বদলীয় সরকার: প্রমাণিত সত্য যে, বাংলাদেশে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্ভব নয়। অপসংস্কৃতির পাশাপাশি ভুলতথ্যসহ ওয়াজ মাহফিলের ব্যাপক প্রসার জাতিকে ক্রমেই ধ্বংসের প্রান্তে উপনীত করছে। কিশোর গ্যাং তার একটি প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

দুর্নীতি, দুঃশাসন, বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করেও সরকার কারচুপি ছাড়া নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পথের সন্ধান পাচ্ছেন না। সরকার ভীত, সন্ত্রস্ত। সু®ু¤ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন নীতিতে আস্থা সৃষ্টি, সুশাসন করা এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে সংবিধানের পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও গণভোটে নির্বাচিত মাত্র দুই বছর মেয়াদি একটি সর্বদলীয় সার্বজনস্বীকৃত জাতীয় সরকার। জাতীয় সরকারের সদস্যবৃন্দ, ন্যায়পাল ও বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যানরা ২০২৮ সাল পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তাদের সব আর্থিক তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।

জাতীয় সরকারের প্রধান করণীয়গুলো

ক. প্রথম তিন মাসের মধ্যে: নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচনী আইনের কতক ধারার সংস্কার, গণভোট এবং ‘‘না’’ ভোটের প্রচলন, প্রশ্নবিদ্ধ সাংসদকে ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষরে প্রত্যাহার ব্যবস্থা (Recall),  জনস্বার্থ সম্পর্কিত বিভাগে ন্যায়পাল(Ombudsman) নিয়োগ, প্রকাশ্যে পান সেবন ও ধূমপান নিষিদ্ধকরণ এবং ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতি পুরোপুরি কার্যকর করে, ওষুধ, শৈল্য চিকিৎসা ও রোগ নিরীক্ষার দর সরকার স্থির করে দেবেন। পর্যাপ্ত লাভ দিয়েও ওষুধের সর্বোচ্চ বিক্রিমূল্য অর্ধেকে নেমে আসবে, অপ্রয়োজনীয় ও প্রতারণামূলক ওষুধ বাতিল হবে। সব ওষুধ কোম্পানিকে একাধিক কাঁচামাল উৎপাদনে প্রণোদনা দেয়া হবে।

মানহানির মামলা করতে হলে ক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা কোর্ট ফি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির শহরে ফৌজদারি মামলা করতে হবে। একই মামলা বিভিন্ন জেলার একাধিক আদালতে করা যাবে না।

খ. পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে: ১. বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক কর্মী ও আলেমদের জামিন নিশ্চিত করে এক বছরের মধ্যে তাদের বিচার শেষ করে রায় কার্যকর করা হবে; ২.  সুশাসন ও সব অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে ১৫-১৭টি প্রদেশ/স্টেটে বিভক্তকরণ, প্রত্যেক প্রদেশে/স্টেটে ৬-৭ জন বিচারপতি সমন্বিত হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠা এবং সুপ্রিম কোর্টে একটি সার্বক্ষণিক সাংবিধানিক বেঞ্চ (ঈড়হংঃরঃঁঃরড়হধষ ইবহপয) সৃষ্টিসহ সুপ্রিম কোর্টে ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ থাকবে। যথা: ফৌজদারি, দেওয়ানি, নির্বাচন ও মৌলিক অধিকার, কোম্পানি বিরোধ ও আয়কর সংক্রান্ত, সব ধরনের দুর্নীতি বিষয়, যৌন নিপীড়ন ও নারীদের অধিকার।

বিচারাধীন মামলার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসা অবধি, আদালতের সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন করা হবে।

৩. সরকারি চাকরিতে শিক্ষিত বেকাররা ৪০ বছর বয়স অবধি অংশ নিতে পারবে। তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে ৩০ বছরের মধ্যে যোগ দিতে হবে। শিল্প ও কৃষিতে স্বল্প শিক্ষিতদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। শিক্ষিত নবীন বেকাররা ৬ মাস বয়োবৃদ্ধ সেবায় প্রশিক্ষণ নিয়ে উন্নত দেশগুলোয় অধিক আয় করতে পারবেন; ৪. চিকিৎসা পেশাজীবীদের স্বল্পতা নিরসনে, সুস্থ থাকলে ৭৫ বছর পর্যন্ত মেট্রোপলিটন শহরের বাইরে কর্মে পুনঃনিয়োগ পাবেন; ৫. জাতীয় নির্বাচনের আগে সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা হবে।

পরবর্তী ৯ মাসের মধ্যে

(ক) ২ কোটি দরিদ্র পরিবারের জন্য সাপ্তাহিক রেশনিং চালু হবে, মাসিক ১০০ টাকায় তিন বালবের বিদ্যুৎ সুবিধা এবং মাসিক ২০০ টাকার প্রিমিয়ামে ওষুধসহ সব প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা পাবেন।

(খ) দুর্নীতি তথ্যের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

(গ) ভোটার তালিকা সংশোধন, জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সহজ করা, ৩-৪ প্রদেশে/স্টেটে অফিস থাকলে চলবে, প্রত্যেক শাখায় চাঁদা দেয়া কমপক্ষে ২ হাজার সদস্য থাকতে হবে তন্মধ্যে ১/৫ নারী। জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় ব্যানারে মিউনিসিপ্যালিটি, ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

(ঘ) পেশাজীবী, বয়োজ্যেষ্ঠ অবসরপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদ ও সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তিদের নিয়ে জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।

(ঙ) ইলেকট্রনিক ভোটার মেশিন (EVM) প্রত্যাহার করে নয় মাসের মধ্যে সুষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন সমাপন।

ইভিএমে ভোট কারচুপির সম্ভাবনা সমধিক।

(চ) (১) সুপ্ত ও সুলভ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রতি বছর ২০ হাজার ছাত্র ভর্তি করা হবে, সমসংখ্যক ছাত্র দন্ত, ফিজিওথেরাপি, নার্সিং ও অন্যান্য প্যারামেডিকেল কোর্সে ভর্তি করা হবে।

(২) প্রত্যেক সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ন্যূনতম ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। ছাত্ররা প্রতি সেশনে এক মাস সেখানে অবস্থান করে শিক্ষা নেবে, শহিদদের কবর জেয়ারাত করবে এবং এক দিন একটি দরিদ্র পরিবারে অবস্থান করে দারিদ্র্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করবে।

(৩) নবীন চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপের মেয়াদ হবে দুই বছর এক বছর নিজ নিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দ্বিতীয় বছর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বিভিন্ন শাখায়।

(৪) বেসরকারি ক্লিনিকগুলো কেবল বেসরকারি প্রাইভেট চিকিৎসক এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চিকিৎসক দ্বারা পরিচালনা করতে হবে। প্রাইভেট ক্লিনিকে কোনো সরকারি চিকিৎসককে সার্বক্ষণিক বা খণ্ডকালীন নিয়োগ দেয়া চলবে না।

(ছ) জেনারেল প্রাকটিশনার্স, রেফারেল চিকিৎসা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রাইভেট প্রাকটিস পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে এবং স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হবে।

(জ) জাতীয় সরকারের প্রথম বাজেটে বার্ষিক ব্যক্তিগত আয় ৫ লাখ টাকা অবধি আয়কর মুক্ত হবে, সব মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী আমদানি শুল্কমুক্ত হবে। ৫ শতাংশ সুদে কৃষিতে ব্যাপক বিনিয়োগ হবে এনজিওগুলোর মাধ্যমে। গড়ে প্রতি ৫০ হাজার লোকের বাসস্থান ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা বেষ্টনী, গভীর নলক‚প, ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের জন্য ৬০০-৮৫০ বর্গফুটের ১০টি বাসস্থান নির্মাণ, ছাত্রদের ডরমিটরি, ল্যাবরেটরি ও অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকীকরণে প্রয়োজন হবে মাত্র ১০ কোটি টাকা। জাতীয় সরকারের মেয়াদকালে অন্ততপক্ষে ১০০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হবে, প্রাথমিক অবস্থায় ২ জন সার্বক্ষণিক চিকিৎসক প্রদেশ/স্টেট থেকে নিয়োগ দেয়া হবে। ৫ জন নবীন চিকিৎসকের নিয়োগ ব্যবস্থা থাকবে আকর্ষণীয় বেতন ও প্রশিক্ষণ সুবিধায়-ইউনিয়ন পর্যায়ে সার্বক্ষণিক অবস্থান ভাতা, বিশেষজ্ঞ ভাতা, শিক্ষকতা ভাতা, বিনা ভাড়ায় বাসস্থান, স্কুল স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিদর্শন ভাতা প্রভৃতি প্রতি মাসে পাবেন।

(ঝ) কারাগার, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর হাসপাতালগুলো সরাসরি AMC (Army Medical Corps) কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে, ফলে দুর্নীতি বিলুপ্ত হবে।

(ঞ) প্রত্যাগত প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে ভিআইপি সবার ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে, শবদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা হবে। প্রত্যেক প্রবাসী ৫০ লাখ টাকার জীবনবীমা সুবিধা পাবেন।

চ. আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

একই সঙ্গে প্রদেশ/স্টেট সংসদের নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশ/স্টেট গভর্নর মনোনয়ন দেবেন, তারা নির্বাচিত হতে পারেন প্রাদেশিক সাংসদ দ্বারা।

রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও গণভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সর্বদলীয় ও বিশিষ্ট নাগরিক গঠিত জাতীয় সরকার (আলোচনার সুবিধার্থে) রাষ্ট্রপতি হবেন।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান অথবা আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন, জনসংযোগ, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন দায়িত্বে নোবেল বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, দুর্নীতি দমনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহিদদের তালিকা প্রণয়নে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং প্রতিরক্ষায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভুইয়া।

আইন, সংসদ ও সংবিধান সংস্কারে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সঙ্গে মানবাধিকার ও আইন কমিশনে অধ্যাপক আসিফ নজরুল; পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক সম্পর্কে আবুল হাসান চৌধুরী (কায়সার), প্রতিমন্ত্রী বিএনপির শ্যামা ওবায়েদ, অর্থ ও দরিদ্রতা নিরসনে অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন, ব্যাংক ও মানিলন্ডারিং নিয়ন্ত্রণে ড. সালেহ উদ্দিন আহমদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে এস এম আকরাম, সংখ্যালঘু ও আদিবাসীর দায়িত্বে অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, Trips ও বৈদেশিক/আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত দায়িত্বে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। শিক্ষা ও মানব উন্নয়নে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান, সঙ্গে ওষুধ প্রশাসনের প্রধানের দায়িত্বে বিএসএমএমইউ অধ্যাপক সাইদুর রহমান খসরু এবং মেডিকেল ও প্যারামেডিকেল শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের দায়িত্বে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাশেম চৌধুরী, শিল্প বাণিজ্যের দায়িত্বে আকিজ গ্রুপের শেখ বসিরুদ্দিন, তথ্য সম্প্রচার ও মিডিয়া দায়িত্বে শিল্পপতি-মিডিয়া মালিক এ কে আজাদ; স্থানীয় শাসন ও প্রদেশ/স্টেট সৃষ্টি সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সমাজ বিজ্ঞানী ড. তোফায়েল আহমেদ; নৌপথ, নৌবন্দর, আন্তর্জাতিক নদীর পানির অধিকার সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রকৌশলী ইনামুল হক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দায়িত্বে প্রকৌশলী সামসুল আলম, নগর উন্নয়ন ও যোগাযোগে স্থপতি মুবাশ্বের হোসেন। প্রবাসী অভিবাসীদের কল্যাণ এবং বৈদেশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও শিক্ষক-ছাত্র Exchange Program স্থাপনে প্রবাসী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হাসনাত হোসেন, এমবিই (MBE)| । ধর্ম ও নৈতিকতায় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক পারভীন হাসান, সংস্কৃতি-যাত্রা ও মেলার প্রসারে গায়িকা শিল্পী নবনীতা চৌধুরী, পরিবেশ ও প্রাণিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শ্রমিক কল্যাণ ও নিরাপদ সড়ক দায়িত্বে বাম সম্মিলিত জোট প্রতিনিধি মনজুরুল আহসান। নারী ও যুব উন্নয়নে বিএনপি প্রতিনিধি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, মানবাধিকার ও সমাজ কল্যাণে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি শেখ রেহানা এবং খাদ্য সরবরাহ ও রেশনিংয়ে মতিয়া চৌধুরী,

সঙ্গে কৃষি ও কৃষক সমবায় প্রসারে সাবেক সচিব ড. শওকত আলী।

ট্রাস্টি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র