প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জাতিসংঘে অনুদান কমাবে ইসরাইল

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রতিবছর জাতিসংঘে দেওয়া অনুদান থেকে ৬০ লাখ ডলার কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনে ইসরাইল অধিকৃত ভূখণ্ডে বসতি নির্মাণ বন্ধে সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া  একটি প্রস্তাবের জেরেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননের দাবি, প্রতিবছর জাতিসংঘের চার কোটি ডলার ‘ইসরাইলবিরোধীদের’ সাহায্যে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ইসরাইলের ভাগের ৬০ লাখ তারা দেবে না।

তিনি জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র কথা উল্লেখ করে এতে অনুদান দিতে অস্বীকৃতি জানান। উল্লেখ্য, সংস্থাটি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং উচ্ছেদ নিয়ে বহুবার প্রশ্ন তুলেছে ও তদন্ত করেছে।

ড্যানি ড্যানন বলেন, ‘জাতিসংঘে যারা আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে, তাদের অর্থের জোগান দেওয়ার কোনো  যৌক্তিকতা নেই। জাতিসংঘকে অবশ্যই এদের সমর্থন  দেওয়া হাস্যকর বাস্তবতার অবসান ঘটাতে হবে। তাদের কাজই হলো উত্তেজনা এবং ইসরাইলবিরোধী প্রপাগান্ডা ছড়ানো।’

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানান, ‘আমরা এ সম্পর্কে কিছুই জানি না।’

ইসরাইলের জাতিসংঘ মিশন আরও জানিয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সম্প্রতি পাস হওয়া ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এই মিশন যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে আনা হলো তার প্রথম পদক্ষেপ।

গত ২৩ ডিসেম্বর ১৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল যে বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে, তার কোনো আইনি ভিত্তি  নেই।’ নিরাপত্তা পরিষদের ১৪টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে তা পাস হয়। ভোটদানে বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে অতীতে তারা ইসরাইলবিরোধী প্রস্তাবগুলোতে ভেটো দিত।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের একটা বড় অংশ দখল করে নেয়। পরে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের সীমানা নির্ধারণ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। যা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।