সুশিক্ষা

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘিরে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থায় চিত্র সন্তোষজনক নয়। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, তীব্র যানজটে নাকাল হচ্ছে মানুষ। নিরাপদ সড়ক দিবসে দেশের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে নিজেদের ভাবনা জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। পাঠকদের উদ্দেশে কথাগুলো তুলে ধরেছেন মো. আশিকুর রহমান

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আবু বকর রায়হান বলেন, গতবছর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিয়ে আন্দোলন করে। তারা গোটা দেশকে তারা দেখিয়ে দিয়েছিল কীভাবে সড়ক নিরাপদ রাখা যায়, কীভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়। তাদের কাছ থেকে অনেক শেখার রয়েছে। সড়ক নিরাপদ করুন, মৃত্যুর মিছিল কমান।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম রিমনের মতে, নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের জাতীয় সমস্যা। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার যে চিত্র চোখে পড়ে তা ভয়াবহ ও দুঃখজনক। দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে ছিনিয়ে নিচ্ছে অমূল্য জীবন, ভেঙে দিচ্ছে অসংখ্য সাজানো সংসার। সড়ক দুর্ঘটনা যতই জটিল হোক না কেন সবার সামগ্রিক চেষ্টা ও সচেতনতায় এ থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন নয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নুরুজ্জামান খান। তিনি বলেন, সড়কের নৈরাজ্য দূর হোক। প্রতিদিন খবরের কাগজ কিংবা টেলিভিশন খুললে দেখি সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে, পঙ্গুত্ব বরণ করছে অসংখ্য মানুষ। এর দায় কার? রাষ্ট্র, পথচারী, চালকের? পথচারীর অসাবধানতা, আইনের যথাযথ ব্যবহারের অভাব ও চালকদের অদক্ষতা সবই এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। রাস্তায় বের হলে ভয়ে থাকি, পরিবারের সবাই ভয়ে থাকেনÑনিরাপদে পৌঁছাতে পারব তো? এই ভীতি কে দূর করবে? নিঃসন্দেহে এটি রাষ্ট্রকে করতে হবে।

ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগে শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান দীপা বলেন, সরকার আইন প্রণয়ন করেও থামাতে পারছে না সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় মারা যাচ্ছে মানুষ। এভাবে আর কত মায়ের বুক খালি হবে? দেশে আইন আছে ঠিকই, কিন্তু আইন প্রয়োগ করার সংস্কৃতি সঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের (নিটার) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শান্ত মালো মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অদক্ষ চালক। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ, দক্ষ চালকের অভাব। আমি মনে করি দক্ষ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, পেশাদার, সচেতন, দায়িত্বশীল, সংবেদনশীল পরিবহন শ্রমিক তৈরি করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা অন্তত ৭০ শতাংশের বেশি হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অন্যকে সচেতন করতে হবে।

সর্বশেষ..