পাঠকের চিঠি মত-বিশ্লেষণ

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ভোগান্তি আর কত?

পাঠকের চিঠি

জাতীয় পরিচয়পত্র বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্ড। এটি এখন নাগরিক পরিচয়ের একমাত্র মাধ্যম। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা, চাকরিসহ সব ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই জাতীয় পরিচয়পত্র। এটির গুরুত্ব কেবল তারা উপলব্ধি করছেন, যাদের পরিচয়পত্রে কোনো ভুল রয়েছে। পরিচয়পত্রে ভুল থাকায় কারও চাকরি হচ্ছে না, কেউ বেতন পাচ্ছেন না, কেউবা ব্যাংকের নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। পরিচয়পত্রে ভুল থাকায় অনেক হতদরিদ্র ভিজিএফসহ বিভিন্ন ত্রাণ নিতে পারছে না। এরকম হাজারো সমস্যায় জড়িত সাধারণ মানুষ। এই সমস্যা-সমাধানের জন্য দিনের পর দিন এমনকি মাসের পর মাস নির্বাচন কমিশনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। গত দশ মাস আগে উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়েছি ভুল সংশোধন  করার জন্য।  কবে নাগাদ এটি হাতে পাই, সেটিও বলতে পারছে না অফিস। নির্বাচন অফিসের এমন ঢিলেমিতে কম মানুষ যে দুর্ভোগের শিকার, তার ইয়ত্তা নেই। এই হয়রানিতে সাধারণ মানুষ নির্বাচন অফিসের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। অনেকেই নির্বাচন অফিসের প্রতি বিরক্ত হয়ে দালালের মাধ্যমে আইডি কার্ড সংশোধনের পথ ধরেছেন। এজন্য হাজার হাজার টাকা দিচ্ছেন দালালের হাতে। ভুল ভোটার আইডি সংশোধনের জন্য দেশের আনাচে-কানাচে একশ্রেণির দালাল তৈরি হয়েছে। যারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে সহজ-সরল মানুষের কষ্টার্জিত হাজার হাজার টাকা। এরা এতই সংঘবদ্ধ, সেবাগ্রহীতাদের একপ্রকার বাধ্য করে তাদের সহায়তা নিতে। নির্বাচন অফিসের নীরবতায় তাদের দুঃসাহস দৌরাত্ম্যের পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের এই ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে নির্বাচন কমিশনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

আজিনুর রহমান লিমন

মিয়াপাড়া, ডিমলা, নীলফামারী

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..