প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬ খসড়ার অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওষুধশিল্পের প্রসার ও নিয়ন্ত্রণে নতুন জাতীয় ওষুধ নীতি, ২০১৬-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রিসভায় ওষুধনীতি ছাড়াও সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিলে উচ্চ আদালতের আদেশ থাকায় নতুন করে তৈরি ‘নজরুল ইনস্টিটিউট আইন ২০১৬’ ও ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৬’-এর খসড়া এবং ১৯৭৭ সালে প্রণীত ‘কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অর্ডিন্যান্স’ সংশোধন করে নতুন করে বাংলায় আইন করার একটি প্রস্তাবও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, নতুন জাতীয় ওষুধনীতিতে ওষুধ তৈরি, বিক্রি, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ও আমদানিতে আরও অধিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় একটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ কর্তৃপক্ষের নাম হবে জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ। এ কর্তৃপক্ষ ওষুধের মান থেকে শুরু করে কাঁচামাল ও অন্যান্য সরঞ্জামের মান দেখবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর এবং ঔষধ প্রশাসন পরিদফতর এসব বিষয় দেখভাল করছে।

বাংলাদেশের ওষুধ এখন ১২২টি দেশে যাচ্ছে। এজন্য এখন ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এ কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর আগে ২০০৫ সালে সর্বশেষ জাতীয় ওষুধ নীতি করা হয়েছিল। এর মধ্যে অনেক কিছুর পরিবর্তন হওয়ায় নতুন করে এই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও, আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ব্রিটেনের যে ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এদের যে চাহিদা আছে, সেগুলো নীতিমালায় সন্নিবেশ করা হয়েছে। নতুন ওষুধ নীতির আওতায় বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সংশোধন করা হবে।

কার্যকর, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন ওষুধের সহজলভ্যতা এবং ওষুধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সব ওষুধ নিবন্ধন করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন, জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ (এনআরএ), ওষুধের বিজ্ঞাপন ও প্রচার নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিকভাবে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ, দেশে নতুন প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান স্থানান্তর, ওষুধ গবেষণা ও উন্নয়নে সমন্বিত যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়।

এছাড়া নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের প্রস্তুত বিক্রয় ও বিতরণ রোধের বিষয়ে নীতিমালায় বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফার্মেসিতে মজুত, প্রদর্শন, ওষুধের মোড়ক বা ধারকের ওপর নির্দেশিত মেয়াদ পরিবর্তন বা অস্পষ্ট করে বিক্রয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে বলে জানান তিনি।

জনস্বার্থ বিবেচনায় ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবছর অন্তত একবার ওষুধের মূল্য তালিকা হালনাগাদ করা হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী, জনগণের অবগতির জন্য সব ওষুধের খুচরা মূল্য ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর প্রকাশ করবে। কেউ ওষুধের অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অর্ডিন্যান্স সংশোধন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অর্ডিন্যান্স সংশোধনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, ‘এক্ষেত্রে মূলত আগের আইনই যথাসম্ভব রাখা হয়েছে। তবে সময়ের প্রয়োজনে কিছুটা সংশোধন করা হয়েছে।’

আগের আইনে যে শাস্তির বিধান ছিল, সেখানে অর্থদণ্ডের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।