প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জাতীয় পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে পারে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব: ড. দেবপ্রিয়

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জাতিসংঘে গৃহীত বৈশ্বিক এজেন্ডা ২০৩০-এর দুটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো এতে নিহিত অভীষ্টগুলো (এসডিজি) পরস্পর-সংযুক্ত এবং অবিচ্ছেদ্য। অর্থাৎ কোনোটিকে বাদ দিয়েই কোনোটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, বরং অর্জিত অভীষ্টের সুফল পাওয়ার জন্য সব অভীষ্টকে সংযুক্তভাবে বাস্তবায়নের কথা চিন্তা করা উচিত। তবে জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন প্রচেষ্টার সফলতার জন্য বৈশ্বিক সহায়তা প্রতিশ্রুতির প্রকৃত বাস্তবায়ন ঘটতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, উচ্চাভিলাষী এ বৈশ্বিক এজেন্ডা গৃহীত হওয়ার পর দুই বছর পার হলেও প্রতিশ্রুত অংশীদারিত্বমূলক সহায়তা সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ এখনও সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।

এসডিজি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে গঠিত সর্বোচ্চ সংস্থা জাতিসংঘের উচ্চ-পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরাম (এইচএলপিএফ) ২০১৭-এর চলমান বার্ষিক সভার এক অধিবেশনে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে এ মন্তব্য করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য। গত ১৪ জুলাই  নিউইয়র্কে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তঃসূত্রীয় প্রচেষ্টা’ শীর্ষক এ অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। দেবপ্রিয় এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার পঞ্চাশের অধিক থিঙ্কট্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক সাউদার্ন ভয়েস অন পোস্ট-এমডিজি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট গোলস-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

অধিবেশনে দেবপ্রিয় আরও বলেন, পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর উন্নয়ন প্রচেষ্টায় বাহ্যিক অংশীদারদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টিকে নিশ্চিত করা বা জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসার জন্য জাতিসংঘের হাতে কার্যত তেমন কোনো পদ্ধতি বা ব্যবস্থা নেই। তিনি মনে করেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এসডিজি বাস্তবায়নের জাতীয় স্বেচ্ছাপ্রণোদিত পর্যালোচনা (ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ) প্রতিবেদন প্রস্তুতের যে নীতিমালা জাতিসংঘ থেকে দেওয়া হয়েছে তাতে কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন, যাতে করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার পারস্পরিক সংযুক্তিতার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর দ্রুত প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা, অবৈধ অর্থ প্রবাহ, আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, জলবায়ু অর্থায়ন এবং মেধাস্বত্বের মতো বিষয়গুলো।

অধিবেশনের অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক মিশেল সিদিবে এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির অর্থনীতি বিভাগের প্রধান চার্লস আর্ডেন ক্লার্ক। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল’ অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক আইরিন খান। ইউএন ফাউন্ডেশনের মিন্-থু ফাম অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘে চেক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত মারি‌্য শাতার্দ্যােভা, যিনি বর্তমানে জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. দেবপ্রিয় এবার নিয়ে পরপর তৃতীয়বারের মতো জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এ ফোরামে আমন্ত্রিত হিসেবে বক্তব্য রাখলেন। এ বছরের ফোরামের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে দারিদ্র্য নিরসন এবং সমৃদ্ধি’।