শেয়ার বিজ ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়া গত জানুয়ারি মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রফতানির রেকর্ড গড়েছে। বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের দ্রুত বিস্তারের ফলে দেশটির তৈরি চিপের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে সরকার।
রোববার প্রকাশিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রফতানি দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে ইতিহাসে এই প্রথম জানুয়ারিতে দেশটির রফতানি ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মেমোরি চিপ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর পণ্যগুলো বর্তমানে এআই অবকাঠামো উন্নয়নে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ও এসকে গ্রুপ অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, জানুয়ারি মাসে সেমিকন্ডাক্টর রফতানি হয়েছে ২০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা বছরে ১০২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। এটি দেশটির মাসিক চিপ রফতানির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর এক মাস আগে, ডিসেম্বরে ২০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের চিপ রফতানির মাধ্যমে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ কোরিয়া।
এছাড়া হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে অটোমোবাইল রফতানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জানুয়ারিতে এই খাতে রফতানি ২১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ বিলিয়ন ডলারে।
এদিকে বাণিজ্য সাফল্যের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক ইস্যুতে চাপে পড়েছে সিউল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন। এ জন্য তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদকে পূর্বের বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন না দেওয়ার জন্য দায়ী করেন।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা ছিল। তবে গত নভেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, এটি কোনো বাধ্যতামূলক আইনি চুক্তি নয়, বরং একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), ফলে সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post