বিশ্ব সংবাদ

জাপানের উদ্যোগে সিপিটিপিপি’তে যোগ দিচ্ছে চীন ও ব্রিটেন

শেয়ার বিজ ডেস্ক : এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অংশীদারিত্বমূলক বাণিজ্য চুক্তি কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগেসিভ এগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (সিপিটিপিপি) সম্প্রসারিত করতে উদ্যোগ নিচ্ছে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদি সুগা আশা প্রকাশ করেছেন চীন ও ব্রিটেন এ চুক্তিতে যোগ দেবে। গত শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজেও যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সিপিটিপিপি মূলত ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপেরই (টিপিপি) নতুন জোট। খবর: রয়টার্স। 

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ফোরামের (এপেক) এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দিয়ে সুগা বলেন, ‘সম্প্রতি গঠিত রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আসিইপি) নিয়ে জাপান খুব আশাবাদী। পাশাপাশি আগামী বছরের মধ্যে সিপিটিপিপি সম্প্রসারণের বিষয়েও আমরা সম্ভাবনা দেখছি।’

একই অনুষ্ঠানে টিপিপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বহুল আলোচিত এ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এবারই প্রথম মুখ খুললেন তিনি। জিনপিং বলেন, সিপিটিপিপি’তে যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে চীন।

এশিয়া অঞ্চলে চীন তাদের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়াতে কতটা সচেষ্ট, চীনের প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যে তার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেল। কিছুদিন আগেই ১৫টি দেশ নিয়ে আরসিইপি চুক্তিতে সই করেছে চীন। এবার সিপিটিপিপিতে যুক্ত হওয়ারও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

এশিয়া অঞ্চলের এ দুটি বৃহৎ অর্থনৈতিক চুক্তির একটিতেও নেই যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এ অঞ্চলে চীনের একচ্ছত্র প্রভাব আরও বাড়তে চলেছে, বিপরীতে সুযোগ কমছে যুক্তরাষ্ট্রের।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়া নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগেই ২০১৫ সালে ১২টি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় বহুল আলোচিত পিপিপি চুক্তি। তবে ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছর পরেই এটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে টিপিপি। তবে বাকি দেশগুলোর আগ্রহে সিপিটিপিপি নামে কোনো রকমে টিকে থাকে চুক্তিটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এ চুক্তিতে সই করা বাকি ১১টি দেশ হচ্ছেÑঅস্ট্রেলিয়া, জাপান, ব্রুনেই, কানাডা, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম।

চুক্তি অনুসারে টিপিপি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। চীন এতে অংশ নিলে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সৃদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শি জিনপিং বলেন, আমাদের অবশ্যই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মূল ভিত্তি অনুসারে বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে বরাবরের মতো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে। অবাধ এবং উম্মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রচার করতে হবে। অর্থনৈতিক বিশ্বায়নকে আরও উম্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সুষম ও সবার জন্য উপযোগী করতে হবে। আঞ্চলিক অর্থনীতি একত্রীকরণে সবার অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..