প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জাপানে নতুন শাখা খুলেছে এমারাল্ড অয়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড জাপানে একটি নতুন শাখা প্রতিষ্ঠা করেছে, যেটি গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, জাপানে প্রতিষ্ঠিত এমারাল্ড অয়েলের নতুন শাখা জাপানের টোকিওতে ২-২০২ ফ্লোরাল হিগাশিকাচি ৬-১৩-১৩ হিগাশিকাচি, এডোগাওয়া-কু’তে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, এমারাল্ড অয়েল কোম্পানি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৫৯ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট পাঁচ কোটি ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৫৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ বা ২০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৬ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল একই। ওইদিন কোম্পানিটির ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৬১টি শেয়ার মোট ২৩৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৮৫ লাখ টাকা। ওইদিন শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৭ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়। এছাড়া গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ৩০ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৪৬ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর মাত্র তিন বছর শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ দিয়েছে। অর্থাৎ ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য যথাক্রমে ১০ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস, ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস এবং ১০ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল তিন ৩৩ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০১৬ শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ১৭ টাকা ২৩ পয়সা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল তিন টাকা ১০ পয়সা আর শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ১৬ টাকা ২৯ পয়সা।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং বাজারদরের ভিত্তিতে মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১১ দশমিক ০৫ এবং অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং বাজারদরের ভিত্তিতে পিই রেশিও ৩০৬ দশমিক ৬৭।

এদিকে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের প্রতিষ্ঠান এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এর আগে এমারাল্ড অয়েলের পরিচালনা পর্ষদ গতছরের পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে কারখানায় পুরোদস্তুর রাইসব্রান অয়েলের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল; কিন্তু তা তখন সম্ভব হয়নি। তখন ডিএসইর মাধ্যমে জানিয়েছিল কভিড-১৯-এর কারণে সারাদেশে আগের বছরের ২৩ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউন থাকায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের নিবন্ধন বা নবায়ন করা সম্ভব হয়নি তাদের। একই সঙ্গে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার রি-শিডিউলিং এবং শেয়ার হস্তান্তরের কার্যক্রম দেরি হয়। অতএব, কোম্পানিটির সমস্যা সমাধানে সময়

বেশি লাগে। এ কারণে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন কার্যক্রম

শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি এবং পরে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে। কোম্পানিটি প্রতিদিন ৩৩০ মেট্রিক টন রাইসব্রান জোগান দেয়ার সক্ষমতা নিয়ে উৎপাদনে গেছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন ৪৮ টন রাইসব্রান অয়েল এবং ২৮২ টন দি অয়েলড রাইসব্রান (ডিওআরবি) উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে তাদের।