প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জাপানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান: রেকর্ড মুনাফা সত্ত্বেও শ্রমিকদের মজুরি কম

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা রেকর্ড ৬২ শতাংশ বাড়লেও কর্মীদের বেতন বেড়েছে মাত্র দুই শতাংশ। বেসরকারি কোম্পানিগুলো খরচ সাশ্রয়ের কথা বলে শ্রমিকদের দীর্ঘ কর্মসময় এবং অতিরিক্ত মজুরির পাওনা পরিশোধ করে না। খবর রয়টার্স।

নিজের ‘অ্যাবেনোমিক’ পরিকল্পনায় কয়েক দশকের কম প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি থেকে মুক্তির উদ্দেশেত শ্রম সংস্কারের  প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। তার প্রস্তাব হলো কর্মসময় কমানো, ওভারটাইম সীমিত করা, অস্থায়ী শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো এবং কর্মপরিবেশ শিশুকর্মীদের জন্য সহজতর করে তোলা।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের ওভারটাইমের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণপূর্বক ন্যায্য মজুরি পরিশোধ করবে  ব্যবস্থাপনা এবং ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা। কিন্তু মালিকপক্ষ কর্মসময় বাড়িয়ে দিয়ে ওভারটাইমের বিষয়ে শ্রমিকদের নিরুৎসাহিত করে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী জাপানিরা মাসে গড়ে ১৪ দশমিক দুই ঘণ্টা ওভারটাইম করেন। কিন্তু সম্প্রতি জাপানিজ ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের এ জরিপে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। দুই হাজার শ্রমিকের মধ্যে করা ওই জরিপের তথ্য হলো, ওই শ্রমিকরা মাসে গড়ে সাড়ে ৪৩ ঘণ্টা ওভারটাইম করেন এবং মজুরি পান ২২ দশমিক সাত ঘণ্টার।

মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান এইচআর স্ট্র্যাটেজির প্রধান নির্বাহী তোশিয়াকি ম্যাতসুমাতো বলেন, প্রায়ই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে, কখনও অকথ্য ভাষার শিকার হয়ে বেশি সময় ওভারটাইম করেও কম সময় ওভারটাইম করেছেন বলে দাবি করতে হয় শ্রমিকদের। ৩৮ বছর বয়সী এক আইটি ইঞ্জিনিয়ার বলেন, প্রায়ই আমি ওভারটাইমের পারিশ্রমিক দাবি করতে পারি না। আমাকে জানানো হয়, আমার প্রকল্পে বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয় হয়ে গেছে। ওভারটাইম না দেওয়ার বিষয় নিয়ে প্রচার করলে আমার পদোন্নতি আটকে থাকতে পারে। নিয়োগকর্তার ভয়ে নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমার প্রতি মাসে গড়ে ৫০ ঘণ্টা ওভারটাইমের মজুরি অপরিশোধিত থাকে। প্রায়ই রাত আটটা পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। বাসায় স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলেকে সময় দেওয়া যায় না। রাত আটটায় অসমাপ্ত কাজ করতে আবার অফিসে যেতে হয়। একটি ইস্পাতপণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করা টোকিওর ২৬ বছর বয়সী কর্মী জানান, তার নিয়োগকর্তা ওভারটাইম কম বলার জন্য  নিয়মিতই চাপ দেন। ছুটির দিন শনিবারসহ ব্যস্ত সময়ে তিনি সকাল সাতটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেন। তিনি বলেন, ওভারটাইম আমাকে অনেক ক্লান্ত করেছে। মাঝেমধ্যে ওভারটাইম নিয়ে বিয়োগান্তক ঘটনাও ঘটে।  একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার ২৪ বছরের এক নারী কর্মী সামে ১০৫ ঘণ্টা ওভারটাইম করে মজুরি পাননি। এরপরও কম সময় ওভারটাইম দেখানোর চাপে আত্মহনন করেন তিনি।