প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জাপান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত অকৃত্রিম বন্ধু দেশ। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৩ সালের জাপান সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এটি ছিল অংশীদারিত্বের সূচনা, যা দিন দিন শক্তিশালী হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সড়ক ও যমুনা নদীর ওপর রেল সেতু, ঢাকা শহরের মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মাতারবাড়ী পাওয়ার প্লান্ট ও মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরসহ চলমান বেশ কয়েকটি আইকনিক মেগা প্রকল্পে জাপান সরকারের সম্পৃক্ততার জন্য জাপান সরকার অবশ্যই আমাদের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতার দাবিদার।

বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকারের মধ্যে গতকাল দুটি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং একটি বাজেট সহায়তা-সংক্রান্ত ঋণের জন্য মোট ২৬৭ কোটি ডলারের (২৯ হাজার ২২৭ কোটি জাপানি ইয়েন) বিনিময় নোট ও ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঋণচুক্তি স্বাক্ষরকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত হয়ে এ কথা বলেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির সঙ্গে বিনিময় নোট এবং বাংলাদেশস্থ জাইকা অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইয়োহো হায়াকাওয়ার সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে গতকাল এ ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসময় অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, সিপিজিসিবিএল, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর, পিজিসিবি, ডিএমটিসিএল, জাপান দূতাবাস এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, কভিড-১৯ মহামারির শুরুতে জাপান বাজেট সহায়তার আহ্বানে খুবই দ্রুত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। জাপান সরকার গত বছর বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো ৩২ কোটি মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণ দিয়েছে এবং সেই সামঞ্জস্যে আজ (গতকাল) ৩৬ কোচি ৫০ লাখ ডলারের কভিড-১৯ ক্রাইসিস রেসপন্স ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফেজ-২ স্বাক্ষরিত হচ্ছে। পাশাপাশি এটাও খুবই আনন্দের যে, ৪২তম ইয়েন লোন প্যাকেজের প্রথম ধাপের অধীনে মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট (ষষ্ঠ ট্রেঞ্চ) ও ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১) প্রকল্পের জন্য ২৩০ কোটি ডলারের দুটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে।

জাপান সরকারের ৪২তম ওডিএ লোন প্যাকেজের প্রথম ব্যাচের আওতাধীন বিনিয়োগ প্রকল্প দুটির জন্য স্বাক্ষরিত ঋণের বার্ষিক সুদহার নির্মাণকাজের জন্য দশমিক ৬ শতাংশ, পরামর্শক সেবার জন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ এবং ফ্রন্ট অ্যান্ড ফি (এককালীন) দশমিক দুই শতাংশ। এ ঋণ ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য। বাজেট সাপোর্ট ঋণের বার্ষিক সুদহার দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং ফ্রন্ট অ্যান্ড ফি (এককালীন) দশমিক দুই শতাংশ। এ ঋণ ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য।

অব্যাহত বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার জেলার মহেশখালি উপজেলায় মাতারবাড়ী এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট আলট্রা সুপার ক্রিটিকাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার চার হাজার ৯২৬ কোটি, জাইকা ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি এবং সিপিজিসিবিএল দুই হাজার ১১৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৪৯ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫১ শতাংশ। জাইকা পর্যায়ক্রমে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে।

৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ দুটি অংশে বিভক্ত। অংশ দুটি হলো বিমানবন্দর রুট (বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর) এবং পূর্বাচল রুট (নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো)। বিমানবন্দর রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার এবং মোট পাতাল স্টেশনের সংখ্যা ১২টি। এ রুটেই বাংলাদেশে প্রথম পাতাল বা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মিত হতে যাচ্ছে। পূর্বাচল রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার। সম্পূর্ণ অংশ উড়াল এবং মোট স্টেশন সংখ্যা ৯টি। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। জাইকা এ প্রকল্পে পর্যায়ক্রমে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে।