শেষ পাতা

জাবি উপাচার্যের দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার বিজ ডেস্ক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে তোলা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহত সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। সূত্র: বিডিনিউজ।

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সেখানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের প্রমাণ করতে হবে। যদি কেউ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়Ñপ্রত্যেকে যারা অভিযোগ নিয়ে আসছে, যারা বক্তৃতা দিচ্ছে, আমি বলেছি সব ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। যদি দুর্নীতি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুর্নীতি করলে যে শাস্তি, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তার যে শাস্তি হতো, যে অভিযোগকারী সে যদি ব্যর্থ হয় প্রমাণ করতে, তাকে কিন্তু সেই সাজা পেতে হবে। এটা কিন্তু আইনে আছে। মিথ্যা অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে কিন্তু আইন ব্যবস্থা নেবে। সেই ব্যবস্থা কিন্তু আমরা নেব। আপনাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রমাণ করতে হবে ওই টাকা নিয়ে কোথায় রাখল, না কী করল, খুঁজে বের করতে হবে। মুখে বললে তো হবে না। সুনির্দিষ্টভাবে সে জানে বলেই তো অভিযোগ করেছে। সুনির্দিষ্টভাবে যখন জানে, তখন সে অভিযোগটা বলবে না কেন বা প্রমাণ দেবে না কেন? আর প্রমাণ যদি না দিতে পারে, তাহলে যে মিথ্যা অভিযোগ করবে তার শাস্তি হবে। সেটা আপনাদের জানিয়ে দিয়ে যাচ্ছি। আমরা কিন্তু এটা করব।’

দিনের পর দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ?উন্নয়নকাজ শুরু হলেই আন্দোলন কেনÑএমন প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব থেকে যেটা লক্ষণীয়, যখন উন্নয়নের কোনো কাজ দেওয়া হয়, যখনই সেখানে একটা প্রজেক্ট দেওয়া হয়, তখনই এই আন্দোলন যেন আরও ঘনীভূত হয়ে ওঠে। কেন? তাহলে যারা আন্দোলন করেন তাদেরও ভাগবাটোয়ারার ব্যাপার আছে, নাকি ভাগে কম পড়ছে, আমার প্রশ্ন সেখানেও আছে। আমি জানি আমি খুব রূঢ় হচ্ছি, কিন্তু বাস্তবে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছেÑএটা কী ধরনের কথা? হয়তো প্রজেক্ট পাস হয়ে গেছে টাকাও ছাড় হয়নি। তার আগেই দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন, কী কারণে? কার ভাগে কম পড়ল যে এই আন্দোলন?’

আন্দোলনে থাকা শিক্ষকদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এভাবে ছেলেমেয়েদের জীবন নষ্ট করার কী অধিকার আছে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলছে… যদি অভিযোগ থাকে বলুক আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। কিন্তু যেখানে আমরা একজনকে ভিসি বানালাম তার বিরুদ্ধে আন্দোলন। আর এর মধ্যে শিক্ষকও জড়িত। শিক্ষকরা ছাত্রদের ব্যবহার করে। এটা কোন ধরনের কথা? এখানে কি কোনো ডিসিপ্লিন থাকবে না? কোনো আইন থাকবে না? আইন প্রয়োগ হবে না? আর আমাদের কিছু কিছু আছে… এটাকে আরও উসকানি দেয়। এই বিষয়গুলো মনে হয় একটু দেখা দরকার আপনাদের।’

তিনি বলেন, ‘আমি হঠাৎ দেখছি কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কথা নেই বার্তা নেই ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন। ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলছে। আমার স্পষ্ট কথা, যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনছে, তাদের কিন্তু এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং তাদের তথ্য দিতে হবে। তারা যদি তথ্য দিতে পারে, নিশ্চয়ই আমরা ব্যবস্থা নেব। কিন্তু তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারবে না। ওই দুর্নীতি-দুর্নীতি করে ক্লাসের সময় নষ্ট করবে। ক্লাস চলতে দেবে না, ইউনিভার্সিটি চলতে দেবে না। আন্দোলনের নামে ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, অফিসে আক্রমণ, ভাঙ্চুর… নানা ধরনের। এটাও তো এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’ 

ছাত্র-শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেন ঘটাবেÑপ্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘তারা ক্লাস কেন বন্ধ করবে? প্রত্যেকটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে কয় টাকা তারা খরচ করে তাদের পড়ার জন্য? খরচ তো সরকারের পক্ষ থেকে করি। স্বায়ত্তশাসন তাদের আছে। স্বায়ত্তশাসিত হলে তো তাদের নিজেদের অর্থের জোগান দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা। কিন্তু প্রতি বছর বাজেটে আমরা টাকা দিই। বাজেটে আমরা টাকা দেব আর সরকার সেখানে কিছুই করতে পারবে না, আর এভাবে দিনের পর দিন তারা ক্লাস বন্ধ করে থাকবে, এটা হয় না।’

আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের পরও বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বুয়েটের সমস্যাটা কী, সেটা তো বুঝতে পারছি না। আমরা তো সবই করলাম। তারপরও এই আন্দোলন কীসের জন্য? বুয়েটে যে আবরার হত্যা ঘটল, আমরা সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যবস্থা নিয়েছি। সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্ররা আন্দোলনের আগেই যখনই খবর এসেছে, তখনই কিন্তু আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। এখন তাহলে আন্দোলন কীসের জন্য, আমার সেটাই প্রশ্ন। দিনের পর দিন ক্লাস করতে দেবে না, নিজেরা ক্লাস করবে না। তাহলে তারা ইউনিভার্সিটিতে থাকবে কেন? এ ধরনের কাজ যারা করবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের এক্সপেল করে দেওয়া উচিত। তারা কীসের জন্য এভাবে করবে?’

সর্বশেষ..