শোবিজ

জামাল হোসেনের প্রথম পূজার গান ‘আরতী’

বিনোদন প্রতিবেদক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা নিয়ে প্রথম ব্যতিক্রমধর্মী গান লিখেছেন কবি ও গীতিকার জামাল হোসেন। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন এ প্রজন্মের শিল্পী হৈমন্তী। সুর করেছেন এসআই শহীদ। সম্প্রতি গানটি রঙ্গন মিউজিকের ব্যানারে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে গানটি বেশ প্রশংসা পাচ্ছে।

গানটির বিষয়ে গীতিকার জামাল হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নবমীর দিন হঠাৎ মনে হলো আজ অবধি একটা পূজার গান লেখা হয়নি। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো দূর্গা পূজা। আর এ গান নিয়ে আমার কোনো গান নেই! অথচ, নিজেকে অসাম্প্রদায়িক দাবি করি। এ ভাবনার ১৪ মিনিটের মাথায় লেখা শেষ হলো আরতী’র।’

তিনি বলেন, ‘গান তো লেখা হলো। এখন কে সুর করবে আর গাইবে বা কে? এদিকে হাতে আছে মাত্র একটা দিন। হিন্দু সুরকারেরা পূজায় ব্যস্ত। মুসলিম সুরকার যারা আমার সাথে কাজ করেন তারা নানা ব্যস্ততার ভান করলো। শেষ চেষ্টা হিসেবে তরুণ সুরকার এস আই শহীদের দ্বারস্থ হলাম। শহীদ লুফে নিল। বললাম সুর আর কম্পোজিশনে সময় পাবে ১৮ ঘন্টা । শহীদ বললো- যথেষ্ট। এবার মিউজিক ভিডিও? এক্ষেত্রে ইলান এক পায়ে খাড়া। এই তরুণের অভিধানে না বলে কোনো শব্দ নেই। সে ৮ ঘন্টায় প্লানিং, হৈমন্তীর শুটিং, পূজা মন্ডপের দৃশ্য ধারণ ও এডিট সম্পন্ন করে সন্ধ্যায় ভিডিও ডেলিভারি দিল। আমার টেকনিক্যাল ম্যানেজার ৭টায় রঙ্গন মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করলো । এমনি যুদ্ধের ফল আরতী।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামে আমি একটা অসাম্প্রদায়িক পরিবেশে বেড়ে উঠেছি। আমাদের গ্রামে প্রচুর হিন্দু পরিবার ছিল। তাদের সাথে মিলেমিশে আমরা বড় হয়েছি। কাছ থেকে তাদের পূজা-পার্বণ দেখেছি। সম্ভবত: এ বিষয়টি গানটি লেখায় অবদান রেখেছে।’

শিল্পী হৈমন্তী সম্পর্কে জামাল হোসেন বলেন, ‘হৈমন্তী গানটা গেয়েছে হৃদয় দিয়ে। বাকিটা দর্শক শ্রোতার হাতে। বলাই বাহুল্য হৈমন্তী রক্ষিত সময়ের সেরা শিল্পী। তার সুরেলা কণ্ঠে মাধুর্য অল্প কথায় সম্ভব না। ইতিমধ্যে সে আমার বেশ ক’টি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। দর্শক শ্রোতারা সেগুলো গ্রহণ করেছে ব্যাপকভাবে । সে দেখতেও দেবী প্রতিমা। আরতী একমাত্র তার কণ্ঠ এবং চিত্রায়ন মানাবে-এ চিন্তা থেকে তাকে ফোন দিলাম কিছুটা দ্বিধা ও আশংকা নিয়ে। সে বললো, ‘দাদা আপনার প্রথম লেখা পূজার গান আমি অবশ্যই করবো যত কাজই থাকুক। আমি স্বস্তি পেলাম। তবে এটা সত্য তার মধ্যে কোনো অহঙ্কার বা ভাব নেই। এ গুনটা তাকে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাবে।’

গানটি সম্পর্কে শিল্পী হৈমন্তী বলেন, ‘সবাইকে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত পূজোর গান দিয়ে জানাই বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা ও প্রনাম। শুধুমাত্র একদিনের সিদ্ধান্তে শ্রদ্ধেয় জামাল হোসেন ভাইয়ের লেখা এই গানটি এস আই শহীদ ভাই কী অসাধারণ সুর করে ফেললেন! আর ইয়ামিন ইলান ভাই তো জাদুকর! এক রাতের মধ্যেই গান তৈরি ! গীতিকবি জামাল ভাই এর পক্ষেই সম্ভব এই অসম্ভব কাজগুলো মুহূর্তের মধ্যেই ঘটিয়ে ফেলা। আশা করি গানটি সবার বেশ ভালো লাগবে।’

গানটি সম্পর্কে সুরকার এস আই শহীদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘গানটি এত সুন্দর ছিল যে সুর করতে সময় লাগেনি। মাত্র একদিনের মধ্যে সুর করা শেষ হয়েছে। আর জামাল হোসেন চমৎকার গান লিখেছেন। ভিন্ন ধারার গানটি আশা করি দর্শকদের মন কাড়বে।’

###

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..