সম্পাদকীয়

জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

মালিকদের মুনাফার স্বার্থে বলি হচ্ছে জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের জীবন। কিন্তু এই দুর্বল, নিপীড়িত, খেটে খাওয়া মানুষের জীবনের নিরপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় উদাসিনতা সমীচীন হতে পারে না। গত তিন বছরে এ শিল্পে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৬ জন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোন শিল্প মালিক এখন অবধি আইনের আওতায় আসেননি। এখানে শ্রমিকের নিরাপত্তায় ২০১৮ সালে আইন প্রণয়ন করার পরেও অবস্থার কোনো উন্নয়ন দেখা যায়নি। এমনকি আইনটির পূনর্মূল্যায়ণের দাবি খতিয়ে দেখা জরুরি। মৃত শ্রমিকের পরিবার কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না। খাতটির সম্ভাবনা বাড়াতে হলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
কেবল চলতি বছরেই লোহার তার ছেঁড়া, প্লেটে চাপা পড়া, বিষাক্ত গ্যাস বিষ্ফোরণ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে এ ১৬ জন শ্রমিক মারা গেলেন। কিন্তু ২০১৮ সালের আইনে শ্রমিকের নিরাপত্তা জোরদারের অসম্পূর্ণ আইন এখানে কোনো ভূমিকা রাখতে পারলো না। জাহাজকে বর্জ্যমুক্ত করে পুনর্ব্যবহার উপযোগী করার বিধান থাকলেও তা অগ্রাহ্য করে শ্রমিকের জীবন ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। কেবল শ্রমিক নয় স্থানীয় পরিবেশও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। উপরন্তু, কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীর নামে জীবন বীমা করার আদেশ এই আইনে থাকলেও তার কোনা বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মস্থলে নিহত শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত ক্রাইসিস কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আরো পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত এখানে মানা হচ্ছে না। কোনো তদারকিও নেই। আত্মরক্ষার সরঞ্জমাদি সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আদেশ থাকলেও তা মানা হয় না কেন তা তদারকি করার কেউ নেই। তবে আমাদের উপকূল অঞ্চলটির পরিবেশ ও সমৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে অনেক পরিবেশবিদ এই শিল্পখাতটির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেবল খাতটির বৈধতা দিতে আইন প্রণয়ন না করে পরিবেশ ও শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে আইনের পূর্ণাঙ্গতা বিধান ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর, বিস্ফোরক ও পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরের তদারকি এখানে আবশ্যক। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এখানে তেমন কোনো পরিকল্পিত গবেষণা ও পরবর্তি কৌশল গ্রহণ করা হয়নি। শ্রমিকদের কাজের প্রয়োজনে কীরূপ সরঞ্জামাদি দিতে হবে সে ব্যাপারেও কোনো গবেষণা ও নীতিমালা প্রণয়নে রাষ্ট্র ও মালিকপক্ষ উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে শিল্পখাতটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে সরকার শ্রমিকের কাজের পরিবেশ সৃষ্টি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ..