শেষ পাতা

জাহালম মামলার রায় স্থগিত চেয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: শনাক্তকরণের ভুলে ঋণ জালিয়াতির মামলায় নির্দোষ পাটকলকর্মী জাহালমের তিন বছর কারাভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার রায় স্থগিত চেয়ে  চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত সপ্তাহে আবেদনটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির আইনজীবী আনিসুল হাসান। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ বাবদ জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা দিতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আদালত আবেদনটি আমলে নিলে শুনানি হবে, কবে শুনানি হবে জানি না।

ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এফ আর নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

রায়ের কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে জাহালমকে ওই ১৫ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরে হলফনামা আকারে বাস্তবায়ন প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়। সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮  কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালের এপ্রিলে ৩৩টি মামলা করে দুদক। দুদক তদন্ত করে বলে, জালিয়াত চক্র সোনালী ব্যাংকের ক্যান্টনমেন্ট শাখায় আবু সালেকসহ তিনজনের হিসাব থেকে ১০৬টি চেক ইস্যু করে।

চেকগুলো ১৮টি ব্যাংকের ১৩টি হিসাবে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জমা করে ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ওই ১৮টি ব্যাংকের মধ্যে একটি হল ব্র্যাক ব্যাংক। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলে সালেকের বদলে গ্রেপ্তার করা হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে। তাকে ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। সে কারণে ব্র্যাক ব্যাংককে এই ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। আদালতের আদেশে গত বছর ৩  ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।

পাটকল শ্রমিক জাহালমের তিন বছর কারাগারে থাকার ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করে দুদক। তবে হাইকোর্টে দুদকের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের ওপর দায় চাপিয়ে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন।

দুদকের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে ৩৩টি মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), অভিযোগপত্রসহ (সিএস) যাবতীয় নথি তলব করেন হাইকোর্ট। দুদকের কার্যক্রমে উষ্মা প্রকাশ করে বিচারক বলেন, ইঁদুর ধরতে না পারলে সেই বিড়ালের প্রয়োজন নেই। জাহালম কেমন আছেন, কীভাবে জীবনযাপন করছেন তার মুখ থেকে তা শুনতে তাকে আদালতে নিয়ে আসতে আইনজীবী অমিত দাসগুপ্তকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। সে অনুযায়ী জাহালম গত বছর ১৭ এপ্রিল আদালতে হাজিরও হয়েছিলেন।

কিন্তু দুদক এক মাসেও নথি দাখিল করতে না পারায় ২ মে শুনানির পরবর্তী তারিখ  রেখে ওই সময়ের মধ্যে ৩৩ মামলার নথি ও দুদকের প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন আদালত। পাশাপাশি আসামি না হয়েও জাহালমের কারাভোগের জন্য কে বা কারা দায়ী তা দেখতে দুদকের কাছে প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট। ওইদিনই আদালত জানান, ২ মে দুদক তাদের প্রতিবেদন দিলে তখনই হাইকোর্ট জাহালমের মুখ থেকে তার কথা শুনবেন। এরপর দুদক গত ২১ এপ্রিল হাইকোর্টের ওই বেঞ্চের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে  চেম্বার আদালতে যায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..