জিএসপি ফিরে পেতে শুল্কহ্রাস করবে ভারত

প্রকাশ: ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২০ সময়- ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি মাসেই ভারত সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিষয়ে বিস্তর আলোচনা এবং একাধিক চুক্তি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কহ্রাসের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) ফেরত চাইবে ভারত। পাশাপাশি মুরগির পা, টার্কি ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানিরও প্রস্তাব দেবে দেশটি। খবর: এনডিটিভি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুরগির পা, টার্কি, ব্লুবেরি ও চেরির মতো বেশ কিছু পণ্য আমদানির জন্য অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে আলোচ্যসূচিতে। মুরগির পা আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই শুল্ক ১০ শতাংশ করার দাবি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

এছাড়া এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুগ্ধজাত বেশ কিছু পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ারও প্রস্তাব দেবে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও কোটা প্রয়োগ করা হবে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম দুধ উৎপাদনকারী দেশ ভারত। এ শিল্পের সঙ্গে দেশটির অন্তত আট কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবন-জীবিকা জড়িত। এ কারণে অন্য দেশ থেকে দুধ আমদানি নিষিদ্ধ রয়েছে ভারতে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে এবার সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি। আগামী ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি ভারত সফর করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। সে সময়েই ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি পেত ভারত। কিন্তু সম্প্রতি চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতির নতুন দাম ধার্য করাসহ ই-বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা দেয় বিজেপি সরকার। এর পরপরই ২০১৯ সালে ভারতের জিএসপি সুবিধা বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের এবারের ভারত সফরে শুল্কহ্রাসসহ বিভিন্ন ছাড়ের বিনিময়ে ওই সুবিধা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করবেন নরেন্দ্র মোদি।

এদিকে ট্রাম্পের সফরের আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি লকহিড মার্টিনের কাছ থেকে ২৬০ কোটি ডলারের সি-হক সামরিক হেলিকপ্টার ক্রয়ে সবুজ সংকেত দিতে চলেছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই ২৪টি এমএইচ-৬০আর সি-হক হেলিকপ্টার ভারতীয় নৌবাহিনী ব্যবহার করবে।

আসন্ন সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যুতে ট্রাম্পকে নমনীয় রাখার লক্ষ্যেই ভারত এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এনডিটিভি বিষয়টি নিশ্চিত করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন নতুন করে বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে খুবই উৎসাহী দিল্লি। ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা অনুমান করছেন, বাণিজ্য নিয়ে চীনের সঙ্গে ব্যাপক বৈরিতার পর ট্রাম্প এবার ভারতকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চীনকে মোকাবিলা করার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নেবে।  

ভারতীয় সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে সাহায্য করাটাও চীনবিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের অংশ। ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট এক হাজার ৭০০ কোটি ডলারের যুদ্ধাস্ত্র কিনেছে।