রাশেদ রুবেল: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। দুদকের উপপরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জয়ানাল আবেদীনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত দুদকের আবেদনে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জানা গেছে, ঢাকা-১ এর মামলা নম্বর-০৩ (তারিখ: ০৩-১১-২০২৫) এর আওতায় সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(৩), ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক পিএলসি, লোকাল অফিস, ঢাকার মাধ্যমে স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে Export Development Fund (EDF) সুবিধাসহ বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকরা পূর্বে কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলেন না বলে জানিয়েছে দুদক।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, বেক্সিমকো গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও বিবি এলসির মাধ্যমে কাগুজে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ‘Accommodation Bill’ তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে ১৫,৫৫,৪৬৫.৯৫ মার্কিন ডলার রপ্তানি মূল্য দেশে প্রত্যাবাসন না করে মোট ১,৪৭,২৯,৩৪০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও আত্মসাতকৃত অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক RR Global Trading FZE নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের মালিকানাধীন বলে জানা যায়। তারাও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
দুদক জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, জড়িত প্রকৃত মদতদাতাদের শনাক্ত, আত্মসাত ও পাচারকৃত অর্থের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ এবং অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে সালমান এফ রহমানকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। সে কারণে আজ (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে চার দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
উল্লেখ্য, সালমান এফ রহমান বর্তমানে রামপুরা ও মতিঝিল থানার মোট ১৮টি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post