নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, আর্থিক দুরবস্থা ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জিবিবি পাওয়ার লিমিটেডের ভবিষ্যতে টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নিরীক্ষক। কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষায় নিযুক্ত নিরীক্ষক এই শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্র এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিবিবি পাওয়ারের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করেছেন ম্যাবস অ্যান্ড জে পার্টনার্স চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পার্টনার এসএইচ তালুকদার।
নিরীক্ষক তার মতামতে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের জুনে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে এ চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। গত দুই অর্থবছর ধরে কোম্পানিটির মূল ব্যবসা বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে কোনো আয় আসেনি। এ অবস্থায় কোম্পানিটির টিকে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।
সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিবিবি পাওয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১১ পয়সা, আগের অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৩৫ পয়সা লোকসান হয়েছিল। এ বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৩১ পয়সায়।
ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার জিবিবি পাওয়ারের শেয়ার সর্বশেষ ৬ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৮ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
এদিকে পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে পুঁজির সংকট ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। পুরোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বহু বিনিয়োগকারী। এর মধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বেশ কিছু কোম্পানি। গত নভেম্বর মাসে ১৮টি কোম্পানি প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তার মধ্যে আলোচ্য সময়ে আয় বাড়াতে ব্যর্থ হয় ৫টি কোম্পানি। তবে আলোচ্য সময়ে আয় বাড়াতে সক্ষম হয় বাকি ১৩টি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এ তথ্য জানা যায়।
আয় বাড়াতে ব্যর্থ হওয়া কোম্পানিগুলো হলোÑএনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন, জিবিবি পাওয়ার, এমজেএল বিডি, পাওয়ার গ্রিড এবং তিতাস গ্যাস, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন।
এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন: প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’২৫) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছিল ৩ টাকা ৮ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১ টাকা ৮৫ পয়সা।
জিবিবি পাওয়ার: চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ পয়সা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৪ পয়সা।
এমজেএল বিডি : প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৫) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছিল ৩ টাকা ৬ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৪৩ পয়সা।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন : প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৫) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছিল ২ টাকা ৫২ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১ টাকা ৯১ পয়সা।
ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন: প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’২৫) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছিল ৪ টাকা ৯৪ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৭ টাকা ১৩ পয়সা।
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post