সম্পাদকীয়

জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত হোক

ওষুধ উৎপাদনে দেশ এখন প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু এখনও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উৎপাদন দেশে হয় না। এসব ওষুধের বেশিরভাগই টিকা-গোত্রীয়। আমদানিনির্ভর হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোর সংকট দেখা দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেও দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন। এতে একদিকে জনভোগান্তি যেমন বাড়ে, তেমনি প্রয়োজনীয় টিকা না পেয়ে রোগীর জটিলতাও বাড়ে। এ ধরনের ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘বাজারে ইমিউনোগ্লোবুলিন টিকার তীব্র সংকট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে ব্যবহৃত এ টিকার চরম সংকট চলছে বাজারে। আর এজন্য এটির দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুণেরও বেশি। বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করি। যেসব ওষুধের ক্ষেত্রে দেশ এখনও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠেনি, সেগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সরকারকেই নিতে হবে।

ওষুধ সাধারণ ভোগ্যপণ্য নয়। মানুষ অসুস্থতা থেকে রক্ষা পেতেই এগুলো সেবন করে। তাই এ ধরনের পণ্যে অস্বাভাবিক মুনাফা কাম্য হতে পারে না। এক্ষেত্রে ওষুধসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নানা ধরনের সংকটকালে ওষুধের বাজারে অস্থিরতা বাংলাদেশে নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়। করোনা সংকটের প্রথম দিকেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রির চিত্র ছিল সারা দেশেই। পাশাপাশি প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এটিও বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। এ তো কেবল দুটি উদাহরণ। দেশে যেকোনো ধরনের ভাইরাসজাতীয় রোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রতিরোধে ব্যবহৃত ওষুধ বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নিজস্ব সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি বলে মনে করি।

সিগারেট নেতিবাচক পণ্য হওয়ায় এ থেকে উপযুক্ত রাজস্ব আহরণে সরকার এটির দাম নির্ধারণ করে দেয়। সিগারেটের বাজারও বেশ নজরদারিতে থাকে। মূলত জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে সরকার এটি করে থাকে। ওষুধও মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ওষুধের বাজারেও সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি থাকা জরুরি বলে মনে করি। ওষুধের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ যদি অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের মতো বাজারভিত্তিক করে দেওয়া হয়, তাহলে উৎপাদন ও বিপণনকারীরা তাদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করবে। ফলে বাজারে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা দেখা দেবে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উচিত ওষুধের বাজার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। অন্যথায় জনগণ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হবে। সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি ভেবে দেখবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..