প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জুট স্পিনার্সের অস্তিত্ব নিয়ে নিরীক্ষকের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জুট স্পিনার্সের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক। কোম্পানির ব্যবসায়িক লোকসানে এ শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, জুট স্পিনার্স ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সাত কোটি ১৬ লাখ টাকা লোকসান করেছে। যাতে পূঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এ অবস্থায় কোম্পানির ভবিষ্যতে ব্যবসা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে নিরীক্ষায় শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন এক কোটি ৭০ লাখ টাকা।
এদিকে কোম্পানিটিতে ২০০৬ সালের শ্রম আইন লংঘন হয়েছে বলে নিরীক্ষক আপত্তিকর মন্তব্য (কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন) করেছেন। এছাড়া কোম্পানির পরিচালক ও সহযোগী ‘অগ্রিম’ শিরোনামে দুই কোটি ৭৫ লাখ টাকা নিলেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত চার বছর ধরে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা এই কোম্পানিটির গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকের চেয়ে এ বছর আয় কমে গেছে এক শতাংশের বেশি। গত বছর এই সময় (তৃতীয় প্রান্তিকে) প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল ৩৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। এবার তা নেমে এসেছে ৩২ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দায়দেনার পরিমাণ ৩৫ কোটি টাকা। যা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে ২১ গুণের বেশি। ফলে এই কোম্পানি থেকে ক্রমেই আস্থা হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে কোম্পানিটির পরিচালন ব্যয় এক শতাংশ কমলেও শেয়ারপ্রতি আয় লোকসান রয়েছে ১০ টাকা। গত তিন বছর ধরে শেয়ারপ্রতি আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৫ সালে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১৯ টাকা ৬৯ পয়সা। তার আগের দুবছর যা ছিল যথাক্রমে ৪৩ টাকা ৬৪ পয়সা ও ৪৮ টাকা ১৪ পয়সা। এদিকে ধারাবাহিকভাবে কমছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয়ও। ২০১৩ সালে এর শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩৯ টাকা। বর্তমানে যা ১০৫ টাকা ১৮ পয়সায় পৌঁছায়। ফলে এ কোম্পানির শেয়ার নিয়ে বিপাকে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
আলাপ করে জানা যায়, বিনিয়োগকারীরা এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধরে রাখবেন, না ছেড়ে দেবেন তা নিয়ে দোলাচলে রয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিনই এ শেয়ারে ক্রেতা সংকট দেখা যাচ্ছে। আর ক্রেতা পাওয়া গেলেও তারা স্বল্পমূল্যে তা ক্রয় করতে চান।
এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানি সচিব এটিএম মুস্তাফা শেয়ার বিজকে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছিল। এর প্রধান কারণ ব্যবসা ভালো না থাকায় ক্রমেই লোকসান বাড়ছে। ফলে লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আগামীতে বিনিয়োগকারীদের ভালো কোনো সংবাদ দিতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, এটা মালিকপক্ষ বলতে পারে। এদিকে গতকাল কোম্পানিটির প্রতিটি
শেয়ার ৫৪ টাকায় লেনদেন হয়। আর দর ওঠানামা করে ৫৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫৪ টাকার মধ্যে। এদিকে ক্রেতা না থাকায় গতকাল কোম্পানির মাত্র ৬০০টি শেয়ার কেনাবেচা হয়। এই শেয়ারগুলো হাতবদল হয় ১৪ বার। এক বছর আগে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার সর্বোচ্চ ৭৪ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়। লোকসানে থাকা কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১২ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ করে
লভ্যাংশ প্রদান করে। অন্যদিকে এ কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩৯.৮২ শতাংশ রয়েছে পরিচালকদের কাছে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৭.০৭ শতাংশ। বাকি ২৩.১১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে।

সাড়ে তিনগুণ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণের মধ্যে দীর্ঘয়োদি ঋণ রয়েছে ৩৫৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আর স্বল্পমেয়াদি ঋণ রয়েছে ১৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এদিকে কোম্পানির সম্পদমূল্যের পরিমাণ ২৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ সম্পদের চেয়ে ঋণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেশি।