স্পোর্টস

জুনিয়র টাইগারদেরও তীরে এসে তরী ডুবল

ক্রীড়া ডেস্ক: গত সেপ্টেম্বরে বড়দের এশিয়া কাপে আশা জাগিয়েও ভারতের বিপক্ষে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ বলে প্রতিবেশী দেশটির কাছে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সেই দুঃসহ স্মৃতি এবার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মাধ্যমে কাটাতে চেয়েছিল লাল-সবুজরা। গতকাল প্রতিবেশী দেশটির বিপক্ষে জোরালো সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল যুবারা। কিন্তু তারাও হাঁটে বড়দের পথেই। বলতে গেলে একবারে তীরে এসে তরী ডুবে যায় তাদের। মানে জয় থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতেই গুটিয়ে যায়। তাতে জুনিয়র টাইগাররাও হারিয়ে ফেলে শিরোপা।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের গতকাল জয়ের লক্ষ্যমাত্রাটা ছিল ৫০ ওভারে মাত্র ১০৭ রান। কিন্তু শুরুতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেটা কঠিন করে ফেলে আকবার আলীর দল। শেষ পর্যন্ত কলম্বোয় অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের কাছে ৫ রানে হারে বাংলাদেশের যুবারা। এর আগে ৩৩ ওভারে ১০৭ রানে ভারতের সব উইকেট তুলে নিয়েছিল লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।
গতকাল ব্যাট হাতে শুরু থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল বাংলাদেশের যুবারা। একপর্যায়ে ৭৮ রান তুলতে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে লাল-সবুজরা। তারপরও নবম উইকেট জুটিতে জুনিয়র টাইগারদের পথ দেখিয়েছিলেন তানজীম সাকিব ও রাকিবুল হাসান। কিন্তু জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতেই আম্পায়ারের ভুল এলবিডব্লিউর স্বীকার হন তানজীম (৩৫ বলে ১২)। মাঝে দুই বল পর শেষ উইকেট তুলে নেন আনকোলেকার। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে উঠেই বাংলাদেশের যুবাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়।
এর আগে ছোট লক্ষ্য তাড়ায় ১৩ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশের যুবারা। প্রথম ওভারেই ফিরে যান ওপেনার তানজীদ হাসান (০)। পরের ওভারে ফেরেন আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন (৫)। চারে নামা তৌহিদ হƒদয় টিকতে পারেনি। টপ অর্ডারের ওই তিন তারকার ব্যর্থতায় শুরুতেই বেশ পেছনে পড়ে জুনিয়র টাইগাররা। সে সময় ভারতীয় যুবাদের পেসার আকাশ সিং বল হাতে আগুন ছোটান।
গতকাল ৪ উইকেটে ১৬ রান থেকে দলীয় ৫০ রান তোলার আগেই আরও একটি উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ১১তম ওভারে স্পিনার অথর্ব আনকোলেকারের শিকার হন শাহাদত হোসেন। ঠিক সে জায়গা থেকে দলের হাল ধরেছিলেন অধিনায়ক আকবার আলী ও অলরাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। তারা ধৈর্য ও দৃঢ়তা দেখিয়ে উইকেটে পড়ে ছিলেন। ৩২ বলে ২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়ের পথেও। কিন্তু ১৯.৪ ওভারে বৃষ্টি নামায় কিছুক্ষণ বন্ধের পর মাঠে বল গড়ালেই এলোমেলো হয়ে পড়ে যুবাদের ইনিংস। ৩৬ বলে ২৩ রান করে আনকোলেকারকে ফিরতি ক্যাচ দেন আকবার। এ অবস্থায় ‘আত্মহত্যা’ই করে বসেন মৃত্যুঞ্জয়। ২২তম ওভারের প্রথম বলে সুশান্ত মিশ্রকে অনর্থক মারতে গিয়ে উইকেট দেন তিনি। ২৬ বলে তার ২১ রানের ইনিংসটি আক্ষেপই বাড়িয়েছে। জয়ের জন্য তখনও দরকার ২৯ রান। তখনই তানজীম হাসান ও দশে নামা রাকিবুল হাসান ধীরে খেলে আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু আম্পায়ার ভুল সিদ্ধান্ধে তানজীম ফিরে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই গুটিয়ে যায় জুনিয়র টাইগাররা।
২৮ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন ভারতের স্পিনার অথর্ব আনকোলেকার।
এর আগে টস হেরে বল হাতে দারুণ করে বাংলাদেশের যুবারা। ফিল্ডিংও ছিল দুর্দান্ত। ইনিংসের শুরুতে ৮ রানের মধ্যে ভারতের ৩ উইকেট তুলে নেয় তারা। পরে অবশ্য চতুর্থ উইকেটে ৪৫ রান যোগ করে প্রতিরোধ গড়েন দলটির অধিনায়ক ধ্রুব জুরেল ও শাশ্বত রাওয়াত। এ জুটি ভেঙে ফের প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। ভারত ৩১ রানের মধ্যে হারায় ৬ উইকেট। তবে করণ লালের কল্যাণে ভারতের সংগ্রহ পেরিয়ে যায় ১০০। তিনি ৪৩ বলে করেন ৩৭ রান। জুরেলের ব্যাট থেকে আসে ৫৭ বলে ৩৩ রান। রাওয়াত ১৯ রান করেন ২৫ বলে।
বাংলাদেশের শামিম হোসেন ৮ রানে মৃত্যুঞ্জয় ১৮ রানে নেন ৩টি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ১০৬ (৩২.৪ ওভারে) (পার্কার ৪, আজাদ ০, ভার্মা ২, জুরেল ৩৩, রাওয়াত ১৯, লাভান্দে ০, আনকোলেকার ২, লাল ৩৭, মিশ্রা ৩, পাতিল ০, সিং ২*; তানজিম ১/২২, মৃত্যুঞ্জয় ৩/১৮, শাহিন ১/২৬, রাকিবুল ০/৩১, শামিম ৩/৮, হƒদয় ০/১)
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ১০১ (৩৩ ওভারে) (তানজিদ ০, ইমন ৫, জয় ১, হƒদয় ০, শাহাদাত ৩, আকবার ২৩, শামিম ৭, মৃত্যুঞ্জয় ২১, তানজিম ১২, রাকিবুল ১১*, শাহিন ০*; সিং ৩/১২, পাতিল ১/২৫, আনকোলেকার ৫/২৮, মিশ্র ১/২৭, লাল ০/৩)।
ফল: ভারত ৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: আনকোলেকার

 

 

সর্বশেষ..