প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জুলাই-নভেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৮৮ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৮৮ কোটি ডলার। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৭৩ কোটি ডলার।

জানা গেছে, আলোচ্য সময়ে সেবা খাতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। এ সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪৬ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসেবে প্রথম পাঁচ মাসে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩৭ কোটি ডলার। মূলত বিদেশে চিকিৎসা, ভ্রমণ ও উচ্চ শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় সেবা খাতের অন্তর্ভূক্ত।

এদিকে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।  অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৭২ কোটি ডলারের ঘাটতি পড়েছে। যেখানে গত অর্থবছরের এ সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ১৩৩ কোটি ডলার।  গত জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত সময়েও চলতি হিসাবের ভারসাম্যে মাত্র চার কোটি ডলার ঘাটতি ছিল। পাঁচ মাসে আমদানি ব্যয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে রফতানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) বিষয়ক বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রফতানি থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৩৩৪ কোটি ডলার। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের বেশি। সে হিসেবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৮৮ কোটি ডলার।

তাছাড়া চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৩৭০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষ করেছিল বাংলাদেশ। তার আগের বছরে এ উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ২৮৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি হিসাবে ঘাটতি তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে রেমিট্যান্সে বড় পতন। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে রেমিট্যান্স কমেছে ১৮ শতাংশ। জনশক্তি রফতানি বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির দুর্বলতাসহ নানা কারণে গত অর্থবছর থেকে কমতে শুরু করেছে রেমিট্যান্স। এ ছাড়া হুন্ডি বেড়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে চলতি হিসাবে ঘাটতি থাকলেও সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে। জুলাই-নভেম্বর সময়ে সেখানে ১৯০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত রয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ২০৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

নিয়মিত আমদানি-রফতানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এ হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো, নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের নিট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট) এসেছে। এ অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের থেকে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে নিট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট যে পরিমাণ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আসে তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ দেশে নিয়ে যাওয়ার পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকেই নিট এফডিআই বলা হয়ে থাকে।

পুঁজিবাজারে নিট বিদেশি বিনিয়োগও বেড়েছে (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট)। এ পাঁচ মাসে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক তিন কোটি ডলার।