সুশিক্ষা

জেইউস্যাডের প্রথম পুনর্মিলনী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ঢাকার ধামরাই উপজেলার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী এবং এ বছর ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের (৪৮ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ধামরাইয়ের (জেইউস্যাড) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।
পুনর্মিলনীর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ব্যাচের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এরপর মেঘলা আকাশকে উপেক্ষা করে বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষাজীবনের চিরচেনা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে আনন্দ র‌্যালি করেন পুনর্মিলনীর আয়োজক ও অতিথিরা। পরে মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে শুরু হয় স্মৃতিচারণপর্ব। এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এ সময় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
জেইউস্যাডের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ৪৪তম ব্যাচের সনজিৎ সরকার উজ্জ্বল ধামরাইয়ের কৃতী সন্তান, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খান, সাবেক রাষ্ট্রদূত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি এম শামসুর রহমান খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান মল্লিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. সুরত আলীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচিতি ও ধামরাইয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ জেইউস্যাডের সূচনালগ্নের পটভূমি নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। বর্তমানে এ উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধামরাইয়ের ১২২ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। এছাড়া ক্যাম্পাসে কর্মরত রয়েছেন ১৪ শিক্ষক ও প্রায় ৭০ কর্মকর্তা-কর্মচারী।
দুপুরের পর সেমিনার কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে জেইউস্যাডের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুর রহমান, জাবি সিনেট সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন, আশীষ কুমার মজুমদার, প্লাজমা বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এ এ মামুন, অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম, দ্বিতীয় ব্যাচের মো. সেফাতউল্লাহ, তৃতীয় ব্যাচের শাহাবুদ্দিন বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ধামরাইয়ের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ বছর জাবিতে প্রথম বর্ষে ধামরাইয়ের ২৩ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। অতিথিরা ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেন।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অবদান রাখায় তিনি ধামরাইয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় ধামরাইয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
প্রধান অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. অজিত কুমার মজুমদার। তিনি সব বাধা অতিক্রম করে জেইউস্যাডকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জেইউস্যাড সভাপতি মো. জাহিদ হাসান। তিনি নবীনদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগী হতে পরামর্শ দেন।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ধামরাইয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান কাব্যের নেতৃত্বে দুই ঘণ্টাব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন মাতিয়ে রাখে পুরো অডিটরিয়াম।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ধামরাইয়ের (ইউস্যাড) শাখা হিসেবে জেইউস্যাড যাত্রা করে। বর্তমানে স্বতন্ত্রভাবে জেইউস্যাড তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সনজিৎ সরকার উজ্জ্বল

সর্বশেষ..