প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জেএসসি পিএসসির ফল প্রকাশ; সৈয়দপুরে দুদিনে ৫ টন মিষ্টি বিক্রি

 

সৈয়দপুর প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেকর্ড পরিমাণ মিষ্টি বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেএসসি, জেডিসি ও পিএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর থেকে

গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সৈয়দপুরের ৩০টি মিষ্টি দোকানে প্রায় ৫ টন

মিষ্টির বিক্রি হয়েছে।

সৈয়দপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ী নাটোর দই ঘরের মালিক প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ শেয়ারবিজকে জানান, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) ও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার (পিএসসি) ফল বৃহস্পতিবার ঘোষণা হবে জেনে মঙ্গলবার রাত থেকে গোয়ালাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে দুধ সংগ্রহ শুরু করেন। বুধবার থেকে চমচম, কালোজাম, রাজভোগ, রসমালাই, মালাইকারী, সন্দেশ, জিলাপি, দই, ক্ষিরসাসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তৈরি করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর শুরু হয় মিষ্টি বেচাকেনা। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত দেড়শ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা কেজি দরে মিষ্টি বিক্রি হয়েছেন তিনি। দুই দিনে প্রায় দেড় টন বেচাকেনা হয়েছে মিষ্টি। আজিম সুইটমিটের পরিচালক রঞ্জন কুমার জানান, দুদিনে মিষ্টির ক্রেতা ছিল অসংখ্য। চাহিদামতো মিষ্টি ক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারেননি। তবে প্রায় ২০ মণ মিষ্টি বিক্রি হয়েছে তার প্রতিষ্ঠানে।

গতকাল শুক্রবার সকালে ব্যবসায়ী সোহানুর পারভেজ এসেছিলেন পাহেলওয়ান সুইটসে। তিনি জানান, জেএসসি পরীক্ষায় তার ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ খুশিতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য অনেক দোকান ঘুরে এ দোকান থেকে পাঁচ কেজি মিষ্টি কিনেছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন দোকানিরা প্রতি কেজি মিষ্টি ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। পাহেলওয়ান হোটেলের স্বত্বাধিকারী সখেন ঘোষ জানান, দুদিনে তিনি বিভিন্ন ধরনের প্রায় এক টন (এক হাজার কেজি) মিষ্টি বিক্রি করেন।

শহরের জিআরপি ক্যান্টিনে এক ঘণ্টার মধ্যেই মিষ্টি শূন্য হয়ে পড়ে। ম্যানেজার মিস্টার জানান, তিনি ২০০ কেজি মিষ্টি বিক্রি করেছেন। দুদিনে ছোট বড় মিলিয়ে ৩০টি মিষ্টির দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ৫ টন মিষ্টি বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এবার মিষ্টি বেচাকেনা অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে। এবার সৈয়দপুরে জেএসসি পরীক্ষায় তিন হাজার ৪৩২, প্রাথমিক সমাপনীতে চার হাজার ২৮৫ ও জেডিসি পরীক্ষায় ৫১০ জনসহ মোট আট হাজার ২২৭ জন পাস করে। এদের মধ্যে এক হাজার ৪৭৪ জন জিপিএ-৫ পায়। এসব কৃতী শিক্ষার্থীসহ পাস করা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উপচেপড়া ভিড় ছিল মিষ্টির দোকানগুলোতে।