প্রচ্ছদ শেষ পাতা

জেডের দৌরাত্ম্যে ভাটা, সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ‘বি’ ক্যাটেগরির শেয়ার

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: বিদায়ী বছরের বেশিরভাগ সময় তালিকাভুক্ত দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির শেয়ারে দৌরাত্ম্য ছিল। তবে সম্প্রতি তেজ কমেছে এসব কোম্পানির শেয়ারের; যার জের ধরে এই ধরনের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদরও কমে গেছে। ফলে এসব কোম্পানির শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ‘বি’ ক্যাটেগরির কোম্পানি। সম্প্রতি ডিএসই থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির গড় পিই-রেশিও অবস্থান করছে ১০ দশমিক ৭৭, যা গত এক বছরের সর্বনিম্ন। মূলত এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যাওয়ার কারণে পিই রেশিও এ অবস্থানে চলে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাতের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। কারণ এসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দুর্বল থাকে। পাশাপাশি এসব কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদান না করা, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করাসহ আরও অনেক ঝামেলা থাকে। তাই এই ধরনের কোম্পানি পিই-রেশিও যতই কম হোক এখানে বিনিয়োগ করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, কোম্পানির কোনো সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া সবসময় এ ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগ এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এই ধরনের কোম্পানিতে বেশিরভাগ সময় কারসাজির ঘটনা ঘটে। তাছাড়া এসব কোম্পানিতে লাভের চেয়ে লোকসানের শঙ্কা বেশি থাকে।
এদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ‘বি’ ক্যাটেগরির কোম্পানি। বর্তমানে এসব কোম্পানির শেয়ারের গড় মূল্য আয় অনুপাত অবস্থান করছে ৫০-এ। ৪০-এর ওপরে গেলে সেই শেয়ারকে অতিমূল্যায়িত মনে করা হয়। সেই হিসাবে (গড়) এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অতিমূল্যায়িত।
অন্যদিকে ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির দৌরাত্ম্য কমার কারণ হিসেবে জানা যায়, সম্প্রতি নামসর্বস্ব দুর্বল ও জেড ক্যাটেগরির শেয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। দুর্বল প্রতিষ্ঠান ছেড়ে তারা ঝুঁকছেন ভালো মানের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দিকে। এর জের ধরে সম্প্রতি ওইসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, বর্তমানে ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমাসহ ভালো মানের শেয়ারের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। যে কারণে কমে গেছে দুর্বল এবং জেড ক্যাটেগরির শেয়ারের দর। ফলে অতিমূল্যায়িত এসব শেয়ারের দর আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছে। তারা বলেন, কিছুদিন আগেও এসব শেয়ারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে। যে কারণে দ্রতই অতিমূল্যায়িত হয়েছে এসব শেয়ার।
এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে সবসময়ই কিছু লোক সুবিধা নিতে চায়। এরা এমনভাবে বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে লেনদেন যে, তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন না। যে কারণে তারা অতিমূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ করতে দুবার ভাবেন না। বেশিরভাগ সময়ই তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিনিয়োগকারীদের এই কথাটি সব সময় মাথায় রাখা দরকার।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বাজারে সব সময়ই এসব শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনা ঘটে। সুযোগসন্ধানীরা এমনভাবে গুজব ছড়ায় যে, বিনিয়োগকারীরা বিষয়টি বুঝতেই পারেন না। ফলে এক সময় শেয়ারগুলো চড়াদরে অন্যের কাছে বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান সুবিধাবাদীরা। তিনি বলেন, দর যতই বাড়–ক না কেন একটা সময় শেয়ারটি প্রকৃত দরে ফিরে আসবে। তাই অতিমূল্যায়িত শেয়ার থেকে দূরে থাকা উচিত। এটা বেশিরভাগ সময় বিপদ ডেকে আনে।

সর্বশেষ..