প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জেনারেশন নেক্সটের রাইট ইস্যু: অর্থ ব্যয় হয়নি আড়াই বছরেও

শরিফুল ইসলাম পলাশ: রাইট শেয়ার ছেড়ে ২০১৪ সালে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা তুলেছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি ‘জেনারেশন নেক্সট’। অর্থ উত্তোলনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও কারখানার আধুনিকায়নে তা ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণে ধীরগতির কারণে অর্থ উত্তোলনের প্রায় আড়াই বছরেও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এজন্য আরও ১৮ মাস সময় চেয়েছে কোম্পানিটি। অন্যদিকে আধুনিকায়ন না হওয়ায় এক বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা ১৫ কোটি টাকা কমেছে।

তথ্যানুসন্ধানে মিলেছে, ২০১৪ সালে দুই আর তিন অনুপাতে তিনটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে দুটি রাইট শেয়ারের মাধ্যমে ১১ কোটি ২৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে দ্বিতীয় দফায় ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে জেনারেশন নেক্সট। রাইট ইস্যু সংক্রান্ত প্রসপেক্টাসে উত্তোলিত অর্থের মধ্যে তিন ধরনের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ৪৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং কারখানার আধুনিকায়নের জন্য ৬৪ কোটি টাকা ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে ওই অর্থ ব্যয় করার কথাও প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়েছিল।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘোষিত সময়ের মধ্যে ৪৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি। এছাড়া রাইট ইস্যুর পেছনে খরচ হয়েছে আরও আড়াই কোটি টাকা। আধুনিকায়নের জন্য নেওয়া বাকি প্রায় ৬৪ কোটি টাকার অর্ধেকই এখনও অব্যবহৃত রয়েছে।

জেনারেশন নেক্সটের কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় যন্ত্রপাতি বসানো যায়নি। কারখানার সামনে কিছু মেশিন পড়ে আছে। তবে চলতি মাসেই নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হবে। এরই মধ্যে কিছু যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে, আরও কিছু প্রক্রিয়াধীন। আমরা বিদেশ থেকে কিছু মেশিন বাকিতে আমদানি করেছি। সেগুলো চালুর এক বছর পর মূল্য পরিশোধ করা হবে। সেজন্য রাইটের টাকা ব্যয়ের জন্য আরও ১৮ মাস সময় চাওয়া হয়েছে। অব্যবহৃত অর্থ দুটি ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা আছে, যখন দরকার তা ভেঙে পেমেন্ট করা হচ্ছে। এসব নিয়ে এখনই লেখালেখির কিছু নেই, লিখলে অসুবিধায় পড়তে হবে।’

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জমি কেনা ও কারখানার নতুন ভবন নির্মাণে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও এখনও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। ভবন নির্মাণ শেষ না হওয়ায় ৯ ধরনের প্রায় ৪০টি মেশিনের যন্ত্রপাতি আমদানি প্রক্রিয়াও আটকে গেছে। অল্প কিছু যন্ত্রপাতি আনা হলেও সেগুলো কারখানার সামনে প্যাকেটবন্দি হয়ে আছে। যন্ত্রপাতি আমদানি প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময় চায় কোম্পানিটি। আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সাধারণ সভা হয়েছে। সবশেষ অর্থবছরে এফডিআরের সুদ হিসেবে ছয় কোটি ৩২ লাখ ২৯ হাজার ৪৭৬ টাকা আয় করেছে কোম্পানি। কিন্তু তারপরও কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা বাড়েনি। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছে কোম্পানিটি। এর আগে ২০১৪ সালের একই সময় জেনারেশন নেক্সটের কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ কারখানার আধুনিকায়ন শেষ না হওয়ায় এক অর্থবছরে কোম্পানির মুনাফা কমেছে ১৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি শুরু থেকে বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। বোনাস লভ্যাংশ ও রাইটের কারণে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা বাড়ায় শেয়ারে আগ্রহ হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রায় এক বছর ধরে ফেসভ্যালুর নিচে রয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। সর্বশেষ কার্যদিবসেও প্রতিটি শেয়ার আট টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে।