প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, নিলফামারী ও মাগুরায় যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের খবর পাঠিয়েছেন প্রতিনিধিরা:

বরিশাল: বরিশালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাঈদুল ইসলাম ৯৬৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খান আলতাফ হোসেন ভুলু পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। জেলার ১৫টি কেন্দ্রে এক হাজার ২৪১ ভোটারের মধ্যে এক হাজার ২২৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ডা. গাজী সাইফুজ্জামান এ ফল ঘোষণা করেন।

রাজশাহী : রাজশাহী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার। তিনি পেয়েছেন ৭৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলু পেয়েছেন ৪১৫ ভোট। রাজশাহী জেলায় মোট ১৫টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার সংখ্যা এক হাজার ১৭১ জন।

বগুড়া : বগুড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ তিনটি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া বাকি ১২টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের পাঁচ পদের বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়। সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচিতরা হলেন ১নং ওয়ার্ডে সুলতান মাহমুদ খান রনি, ২নং ওয়ার্ডে মাহফুজুল ইসলাম রাজ, ৩নং ওয়ার্ডে আসাদুর রহমান দুলু. ৪নং ওয়ার্ডে মোস্তাফিজুর রহমান ভুট্টু, ৫নং ওয়ার্ডে ফজলুল হক, ৭নং ওয়ার্ডে রেজাউল কমির মন্টু, ৮নং ওয়ার্ডে আনছার আলী মাস্টার, ৯নং ওয়ার্ডে মিনহাদুজ্জামান লিটন, ১০ নং ওয়ার্ডে মারুফ রহমান মঞ্জু, ১১ নং ওয়ার্ডে আবদুল করিম, ১৩ নং ওয়ার্ডে রুহুল মোমিন এবং ১৫ নং ওয়ার্ডে জাহিদুল বারী। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নির্বাচিতরা হলেনÑসাহাদারা মান্নান, মাছুমা খানম লিপি, নাজনীল নাহার, সামছুন্নাহার আকতার বানু ও মঞ্জু আরা বেগম।

মাগুরা: মাগুরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পঙ্কজ কুণ্ডু বিজয়ী  হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের  ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক রানা আমির ওসমান    পেয়েছেন ১৮০ ভোট। অপর প্রার্থী কুতুব উল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি পেয়েছেন আট ভোট। জেলা  পরিষদ  নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মাহবুবর রহমান এ ফল ঘোষণা করেন।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনোয়ার হোসেন ও পাঁচ ওয়ার্ডে পাঁচ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া তিনটি ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। সোনারগাঁ সংরক্ষিত ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট নূর জাহান এবং ৪নং ওয়ার্ডে মোস্তফা হোসেন চৌধুরী, ৬নং ওয়ার্ডে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জাহের, ৭নং ওয়ার্ডে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, ৯নং ওয়ার্ডে সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাত খুনের মামলার আাসামি নূর হোসেনের শ্যালক নূরে আলম খাঁন জয়ী হয়েছেন। ৮নং ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু নাইম ইকবাল, ১৩নং ওয়ার্ডে মোস্তাফিজুর রহমান, ১৪নং ওয়ার্ডে মিজানুর রহমান, ১৫নং ওয়ার্ডে কামরুল হাসান ভূইয়া ও সংরক্ষিত ৫নং ওয়ার্ডে সীমা রানী পাল জয়ী হয়েছেন।

রংপুর : রংপুরে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানম। তিনি ৭৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদ আম্বিয়া সমর্থিত মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার ৩১৯ ভোট পেয়েছেন। এবার রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে ৩৫ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রংপুরে ১৫টি ভোট কেন্দ্রে ৩০ টি বুথে ভোটাররা ভোট প্রয়োগ করেন। এতে ভোটার ছিলেন ১০৮৪ জন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৩ নং ওয়ার্ডে সেলিনা খাতুন, ৪ নং ওয়ার্ডে সৈয়দা দিলনাহার বেগম বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নীলফামারী :  নীলফামারীতে চেয়ারম্যান পদে ৪৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। ৪১১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক। নির্বাচন শেষে ভোটগনণার পর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে বেসরকারীভাবে ফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার জিলহাজ উদ্দিন জানান, নীলফামারীর ৬টি উপজেলা, ৪ টি পৌরসভা ও ৬১টি ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মোট ৮৫৫ জন  ভোটার। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে একটি ব্যালট বাতিল হয়।