সাক্ষাৎকার

জ্ঞানদানের উদ্দেশ্যে এগোচ্ছে কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যাত্রা ২০১৬ সালের জুনে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসহ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে সম্প্রতি শেয়ার বিজের সঙ্গে কথা বলেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ডালিয়া আক্তার

শেয়ার বিজ: এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার আসার প্রেক্ষাপটটা দিয়ে শুরু করতে চাই।

মাহফুজুল ইসলাম: চলতি বছরের ১ জানুয়ারি আমি এখানে যোগ দিই। তবে এর আগে প্রায় আট-নয় মাস ধরে নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করছিলাম। আমি একটু অবজার্ভ করছিলাম প্রায় আট-নয় মাস ধরে এবং যোগদানের বিষয়ে পরিকল্পনা করছিলাম। বোঝার চেষ্টা করছিলাম এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা ঠিক হবে কি না। আমি আসলে বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে খুব ভয় পাই। কারণ আমার কাছে মনে হচ্ছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য শিক্ষা নয়, ব্যবসা। ব্যাপারটা এমন যে, আমাকে একটা গ্র্যাজুয়েশনের সনদ ধরিয়ে দেওয়া হলো, অথচ আমি কিছু জানি না। এই সার্টিফিকেটের কী মূল্য আছে? এ কারণেই যোগদানের আগে অনেক দিন অপেক্ষা করেছি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মানসিকতা এবং তারা কি প্রকৃতপক্ষে ভালো কিছু করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, নাকি অন্যদের মতোই বাজারে গা ভাসিয়ে দিতে চান সে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। সার্বিক বিষয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার পরই এখানে যোগদান করেছি। আমার মনে হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি ভালো এবং মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এগুচ্ছে।

শেয়ার বিজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমাদের কিছু বলেন।

মাহফুজুল ইসলাম: বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা ২০১৬ সালের জুনে। এটা একদমই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং সবকিছু নতুন করেই সাজাতে হচ্ছে। আমি যখন দায়িত্ব নিই, তখন আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনামুখী করা। একটা দুঃস্বপ্ন আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। সেটা হচ্ছে ছাত্ররা পড়াশোনা করতে চায় না, ছাত্ররা বই খোলে না। আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল ছাত্রদের ক্লাস ও পরীক্ষামুখী করা। এখন আমার ক্লাস ও পরীক্ষায় উপস্থিতি প্রায় শতভাগ। আগে আমাদের জ্ঞানার্জনের প্রধান মাধ্যম ছিল বই, বিনোদনও ছিল বই। সত্যি কথা বলতে গেলে জ্ঞানার্জন হবে পাঠ্যবই পড়ে, আর বিনোদন হবে গল্পের বই পড়ে। কিন্তু গল্পের বইয়ের মাঝেও যে জ্ঞান অর্জন হতে পারে সেটা আমরা কখনোই চিন্তা করতাম না। এটা আধুনিক যুগের ধ্যান-ধারণা। আমরা ছাত্রদের বিশ্বমানের করে তোলার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছি এবং তাদের সর্বোচ্চ সাহায্য-সহযোগিতা করছি। এরই মধ্যে আমাদের অনেক ছাত্র বিভিন্ন দেশে পড়তে গেছে এবং আমরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি।

শেয়ার বিজ: শিক্ষার্থীদের গুণগত উন্নয়নে আপনার পদক্ষেপ কী?

মাহফুজুল ইসলাম: শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার প্রতি বিমুখ হবে, সার্টিফিকেটের প্রতি বিমুখ হবে, এটাই স্বাভাবিক। আমি প্রথম থেকেই একটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি, তা হলো শিক্ষার্থীদের কীভাবে পড়ালেখায় যুক্ত করা যায়, যাতে ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহী হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এরই মধ্যে ইউজিসি আউটকাম ইডুকেশন কনসেপ্ট নিয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। কিন্তু সেটা কাগজে-কলমেই থেকে গেছে, বাস্তবে প্রতিফলন হয়নি। আমরা এ কারণে প্রথমে মনে করি টিউটোরিয়াল-বেইজড এডুকেশন শুরু করতে হবে। টিউটোরিয়াল-বেইজড এডুকেশন কনসেপ্টে আমি এভাবে আসছি ধরেন, একটা লেকচার ক্লাস হবে। তার পরের ক্লাসটি হবে টিউটোরিয়াল, যে কারণে আমরা ক্লাস ডিউরেশন বাড়িয়ে দেড় ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা করলাম। টিউটোরিয়াল ক্লাসের আবার দুটা পার্ট থাকে। লেকচার ক্লাসটা যথারীতি লেকচার ক্লাসের মতোই হচ্ছে। দুটা পার্টের একটা হচ্ছে রিভিউ পার্ট, অন্যটা অ্যাপলিকেশন পার্ট। রিভিউ পার্টে আগের লেকচার পার্টে যা পড়ানো হয়েছে তা শিক্ষাথীরা বুঝতে পারছে কি না, সেটা তাদের ভেতর থেকে বের করে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কনফুসিয়াসের একটা উক্তি বলতে চাই, Whatever I teach students will forget it. If I explain students may remember. But if I involve them they could understand. ’কাজেই আমরা চেষ্টা করছি আগের ক্লাসে যা পড়িয়েছি, সেটাতে তাকে যুক্ত করে পড়াটা সম্পন্ন করতে। শিক্ষার্থী উত্তর দেবে, সে-ই ব্যাখ্যা করবে, তারা এখানে আলোচনা করবে। আর দ্বিতীয় পার্টটা হচ্ছে এই নলেজটা রিয়েল লাইফে কোন কাজে লাগবে, এ ধরনের কিছু প্রকল্প আনা। এটা হচ্ছে প্রায়োগিক অংশ। এভাবে আমরা টিউটোরিয়াল পার্টকে দুভাগে ভাগ করছি। এর ফলে ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে ইন্টারকানেকশনের সুযোগ বাড়ছে এবং শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও বইবিমুখ হওয়া থেকে বের হয়ে আসতে পারছে। এর ফল আমরা গত এক বছরে দেখতে পাচ্ছি। এর ফলে প্রথমত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেও আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষামুখী করতে পেরেছি। দ্বিতীয়ত, এ শিক্ষার্থীরা জ্ঞান ও দক্ষতা দুটোই অর্জন করতে পারছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে একজন ছাত্রকে শিক্ষিত হতে হলে জ্ঞানার্জন করতে হবে, সঙ্গে দক্ষতাও। টিউটোরিয়াল-বেইজড এডুকেশনের ফলে ছাত্ররা জ্ঞান ও দক্ষতা দুটোই অর্জন করতে পারছে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা তৈরি হয়ে যাচ্ছে আগামী প্রজন্মের জন্য।

শেয়ার বিজ: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। এ বিষয়ে আপনার পদক্ষেপ কী?

মাহফুজুল ইসলাম: সামনে আমরা তথ্যপ্রযুক্তির নতুন একটি যুগে প্রবেশ করব। সেটি হচ্ছে ফাইভ-জি যুগ। এর ফলে পৃথিবীতে একটা ব্যাপক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। তাই আমাদের ছেলেমেয়েদের পাল্টে যাওয়া পৃথিবীর উপযোগী করতে হবে। এর জন্য ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমার বিজনেস স্কুলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্র্যাকটিক্যাল কোর্স চালু করতে যাচ্ছি। আইসিটি-বেইজড কোর্স চালু করতে যাচ্ছি, যা বিজনেসের জন্য কাজে আসবে। এভাবে কারিকুলাম দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি এবং আমরা কাউকে অনুসরণ করি না। একটা জিনিসই অনুসরণ করতে চাই, তা হলো যুগের চাহিদা। বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তিতে টিকে থাকতে হলে আমাদের কী করতে হবে, কীভাবে আমাদের ছেলেমেয়েদের তৈরি করতে হবে সে বিষয় বিবেচনায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছি।

শেয়ার বিজ: এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কি পিএইচডি গবেষণা হয়?

মাহফুজুল ইসলাম: আমরা এ মুহূর্তে পিএইচডি ডিগ্রি দিচ্ছি না। কারণ ইউজিসি কোনো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে পিএইচডি প্রদানের অনুমতি দেয়নি। কখনও সেই অনুমোদন যদি ইউজিসি দেয়, তবে অবশ্যই আমরা সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব এবং শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করব। তবে আমরা গবেষণাকে প্রমোট করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছি। যদিও গবেষণা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারছি না নিজেদের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে। তবে এ ব্যাপারে আমাদের পলিসি আছে। এর মাধ্যমে আমরা গবেষণার ওপর একটা মাইলফলক দিতে পারব ভাবছি।

শেয়ার বিজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা কি বাংলাদেশের গতানুগতিক নাকি, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখছেন?

মাহফুজুল ইসলাম: বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স মাত্র দুই বছর। আমাদের ইউনিভার্সিটিতে যত বিদেশি শিক্ষার্থী আছে, তা আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। প্রায় ১০০ বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে। আমাদের মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন ইংলিশ। এখানে বিষয় হচ্ছে দুটো। একটা হচ্ছে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন করা। আরেকটা হচ্ছে জ্ঞানের প্রয়োগ করা। মাতৃভাষায় শিক্ষা অর্জন করলে জ্ঞান অর্জন সহজ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু জ্ঞানের প্রয়োগটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নিশ্চিতভাবে ইউনিভার্সিটি হচ্ছে ইউনিভার্সাল। এটা বিশ্বের উন্নত দেশের কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আমাদের ইউনিভার্সিটিতে স্ট্যান্ডার্ড ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে আমরা ছাত্রছাত্রীদের যোগ্য করে তৈরি করছি, যাতে তারা সারা বিশ্বের জন্য তৈরি হয়, শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। আমরা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং এমওইউ করেছি। আমাদের বেশ কিছু শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে দেশের বাইরে পড়তে গেছে। কানাডা, ইউএসএ, ইউকে, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, জাপান, চীনসহ অনেক দেশের ইউনিভার্সিটির সঙ্গে এমওইউ সাইন করা আছে। আমাদের ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করে ওইসব ইউনিভার্সিটিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে পারবে। কানাডার টরন্টোতে আমাদের একটা অফিস আছে ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। কানাডিয়ান এমবাসি এবং কানাডিয়ান সরকারের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক আছে। আমাদের নামটাই শুধু কানাডিয়ান নয়, নামের সঙ্গে সব ইতিবাচক দিক কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত আছে।

শেয়ার বিজ: বর্তমানে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় কান্ট্রি ও গ্লোবাল র‌্যাংকিংয়ে আপনাদের অবস্থান?

মাহফুজুল ইসলাম: আমরা এখনও ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ের আওতাভুক্ত হতে পারিনি। আমাদের ছাত্রদের ভালো করার জন্য যে ইনপুটগুলো দেওয়া দরকার তা আমরা দিচ্ছি। যখন আমার ছাত্ররা পাস করে বের হবে, তখন আমরা আশা করি র‌্যাংকিংয়ের ভালো একটা অবস্থানে আমরা থাকব এবং তা র‌্যাংকিংয়ের প্রথম দিকের অবস্থানে। এই ব্যাপারে আমি বড় গলায় বলতে পারি।

শেয়ার বিজ: শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ট্রাস্টি বোর্ডের দায়িত্ব কতটুকু?

মাহফুজুল ইসলাম: এখানে সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দুই ধরনের। সবাই দায়ী করে সরকারকে। ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। সরকারের টার্গেট হচ্ছে দেশের শতভাগ মানুষকে শিক্ষিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। আমি মনে করি, সরকার সঠিক পথে আছে। কিন্তু আমরা যারা ইউনিভার্সিটি, স্কুল-কলেজ চালাচ্ছি, আমরাই সঠিক পথে নেই। সরকার যখন বলছে ১০০ শতাংশ মানুষকে শিক্ষিত করো; তখন আমরা শতভাগ মানুষকে সার্টিফিকেট দেওয়ার চেষ্টা করছি। ফলে আমরা শিক্ষার মান ধরে রাখতে পারছি না। শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে পারছি না। শিক্ষাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি না। এজন্য সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিল। কিন্তু আমরা শিক্ষার মানের খেয়াল না রেখে এটাকে আমরা একটা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করে ফেলেছি। আমরা কতগুলো সার্টিফিকেট দিতে পারি, কতগুলো টাকা নিতে পারি এর প্রতিযোগিতা করছি। এই জায়গাটার পরিবর্তন হওয়া দরকার। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার। এই দেশটাকে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের যদি ব্যবসাও করতে হয়, তবে সেটা গুণগত মান বজায় রেখে করতে হবে।

শেয়ার বিজ: গবেষণার দিক দিয়ে আমরা কেন পিছিয়ে? শোনা যায় ভারত আমাদের চাকরির বাজার দখল করছে, এটা কেন হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?

মাহফুজুল ইসলাম: এই জায়গায় দুটো দিক আসছে। একটা শিক্ষা এবং অন্যটা গবেষণা। সরকার গবেষণার জন্য অর্থ দিচ্ছে। সরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তারপরও আমরা এগিয়ে যেতে পারছি না। সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। দেশটা কীভাবে এগিয়ে যাবে সে ব্যাপারে আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। আমরা এখনও ওই পর্যায়ে যেতে পারিনি। আমাদের দেশে হঠাৎ করে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির সংখ্যা বেড়ে গেছে। এর বেশিরভাগই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি। তারা শিক্ষার মানের দিকে খেয়াল রাখছে না। এই যে আমাদের জ্ঞান প্রদানের দুর্বলতা এটি আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে ফেলছে এবং আমাদের চাকরি বাজারে জটিলতার সৃষ্টি করছে। আর এই সুযোগটাই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত নিচ্ছে। কারণ তাদের দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। আর আমাদের দক্ষতার অভাব রয়েছে।

শেয়ার বিজ: শিক্ষার মানের দিক থেকে কেন আমরা ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা থেকেও পিছিয়ে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী বলে আপনি মনে করেন?

মাহফুজুল ইসলাম: শুরু কবতে হবে একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকে। প্রাথমিক স্তরের অরাজকতা বন্ধে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সরকার গত কয়েক বছরে অনেক প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বিদেশ থেকেও প্রশিক্ষণ করিয়ে আনছে। একই সঙ্গে দেশেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আমাদের মেরুদণ্ড শক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, ছাত্রদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে শিক্ষা দেওয়া, তাদের কীভাবে পড়াতে হবে সেই শিক্ষা দেওয়া। সর্বোপরি শিক্ষা দান নয়, জ্ঞান অর্জনে ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কিন্তু আমরা শিক্ষাদান করে থাকি। এ থেকে আমাদের বের হতে হবে।

শেয়ার বিজ: আপনাকে ধন্যবাদ
মাহফুজুল ইসলাম: শেয়ার বিজকেও ধন্যবাদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..