প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জ্বালানির ওপর কর খড়্্গ যেন ভোক্তাদের ওপর না পড়ে

নভেম্বরে ডিজেল-কেরোসিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। এতে সীমিত ও নি¤œ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা তখন বলেছেন, তেলের দাম বাড়ানোর ফলে কৃষক থেকে শুরু করে নাগরিক মধ্যবিত্তরা ভোগান্তির শিকার হবেন বেশি। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়বে এবং সংসারের মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে। নাগরিক সমাজ থেকে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা হয়। সব শেষে তারা উপসংহারে পৌঁছান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মোটেই প্রয়োজন ছিল না।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে বাস, ট্রাক, লঞ্চসহ সব পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। পরে জানা গেল পরিবহনভাড়া এমনিতেই বেশি। সরকার নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বলেছে, পরিবহনভাড়া আগের মতোই থাকবে। কভিডকাল চলছে। এরই মধ্যে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে তহবিল গঠন করেছে সরকার। জ্বালানির ওপর কর বসিয়ে মেরামতের অর্থ সংগ্রহ করা হবে। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি লিটার/ঘনমিটার জ্বালানির মূল্য থেকে কাটা হবে এক টাকা। সম্প্রতি এ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।

সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল বোর্ড বিধিমালার যে খসড়া তৈরি করেছে, তাতে এ প্রস্তাব রয়েছে। খসড়াটি এখন ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। আগামী অর্থবছর থেকে নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে চায় সরকার।

আমরা মনে করি, নতুন করভার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াবে। কভিডের সংক্রমণ শুরুর পর কয়েক দফা নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একদিকে শ্রমজীবীরা কর্মহীন হচ্ছেন, অন্যদিকে সবকিছুর দাম বাড়ছে। মধ্যবিত্তরাও সংকোচ ভুলে সাশ্রয়ী দামে লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে ভোগ্যপণ্য কিনছেন। এখন যদি জ্বালানি তেলের ওপর করারোপ করা হয়, তা হবে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’। জ্বালানি তেলের দামে কর না বসিয়ে বিকল্প উৎস থেকে সড়ক মেরামতের জন্য তহবিল গঠনের বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। ২০১৩ সালে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল বোর্ড আইন করা হয়। এত দিন আইনটি কার্যকর করা হয়নি। এটি কার্যকর করার জন্য কভিডকাল উপযুক্ত সময় নয়।

বলা হচ্ছে, মোটরযানে ব্যবহƒত জ্বালানি থেকে প্রতি লিটার বা ঘনমিটারে এক টাকা করে আদায় করা হবে। ওই টাকা জ্বালানির বর্তমান মূল্য থেকে আদায় করা হবে নাকি দাম বাড়িয়ে আদায় করা হবে, সেটি স্পষ্ট করা হয়নি। জ্বালানি তেল শুধু যানবাহন নয়, কৃষিকাজেও ব্যবহার করা হয়। করের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত রবি মৌসুমে কৃষকের সুবিধার জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে। কৃষককে রক্ষায় আমাদেরও ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়ক নির্মাণের মতো রক্ষণাবেক্ষণ সেভাবে দৃশ্যমান হয় না। ফলে আদৌ রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। তাছাড়া এই তহবিল অনেক বড় হওয়ায় অনিয়ম বা দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারেরও আশঙ্কা থাকে। এমন যেন না ঘটে, তাও সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।