বিশ্ব সংবাদ

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির অভিনব প্রতিবাদ মমতার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। গতকাল ইলেকট্রিক বাইকে চেপে নবান্নে পৌঁছান তিনি। পরে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির জন্য বিজেপি সরকারকে দায়ী করেন তিনি। এছাড়া স্টেডিয়ামের নাম বদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।

এদিকে আন্তর্জাতিক সেমিনার বা সম্মেলন আয়োজনের আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে থেকে কেন্দ্র বা রাজ্যের অনুমোদন নিতে হবে বলে সম্প্রতি নিয়ম জারি করেছে ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়মেরও বিরোধিতা করেছেন মমতা। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। খবর: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা রাজ্যের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা রাজ্যের হাতেই থাকে। তাই কীভাবে সেখানে এই নিয়ম করা হচ্ছে, তাও জানতে চেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

অপরদিকে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল হাজরা মোড় থেকে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ইলেকট্রিক বাইকের পেছনে বসে যাত্রা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার গলায় ঝোলানো ছিল জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ-সংক্রান্ত পোস্টার। দুপুর ১২টার দিকে নবান্নে পৌঁছান তিনি। সফরের সঙ্গে অন্য বাইকে ছিলেন তার নিরাপত্তারক্ষীরা।

সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘ভোটের সময় এলেই বলে বেড়ান গ্যাস দেব। ওটা সত্যি সত্যি গ্যাস, মানে গ্যাস বেলুনোর মতো। কিন্তু সেই রান্নার গ্যাসের দাম ৮০০ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। এটা ভাঁওতা ছাড়া কিছু নয়। দাম জনতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন?’

গত বুধবারই গুজরাটের মোতেরা স্টেডিয়ামের নাম পাল্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নামে হয়েছে ‘নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম’। এ নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামের নামও পাল্টে দিয়েছে। কোনোদিন হয়তো দেশের নামটাও পাল্টে দেবেন।’ এ সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারিকরণের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জোরালো আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। এতে সমর্থন জানিয়ে থাকবেন মমতা। এর আগেও এমন প্রতিবাদ জানিয়ে একাধিকবার বাইকের পেছনে সওয়ার হয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় পুলিশ ঢোকা ঠেকাতে আটকাতে রাস্তা কেটে, গাছ ফেলে গোটা এলাকা অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা। সে সময়ও বাইকে করে নন্দীগ্রামে যান মমতা। এছাড়া জঙ্গলমহলে গিয়ে ছত্রধর মাহাতোর বাইকের পেছনে চড়েছেন তিনি। সেগুলো ছিল তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত।

কিন্তু পেট্রোল-ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ আগে থেকেই পরিকল্পনা করেই নির্ধারণ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। ট্রাফিক আইন মেনে, মাথায় হেলমেট পরে পুরো রাস্তা সফর করেন তিনি। প্রতিবাদ-আন্দোলনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব করতে সম্প্রতি জ্বালানিতে এক রুপি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..