সম্পাদকীয়

জ্বালানি তেলের মান নিয়ন্ত্রণে নজর দিন

দেশে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। প্রতিষ্ঠানটি পণ্যসামগ্রীর মান প্রণয়ন, প্রণীত মানের ভিত্তিতে পণ্যের গুণাগুণ পরীক্ষা, বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতাভুক্ত পণ্যগুলো পরীক্ষার পর সনদ প্রদান এবং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। 

বিএসটিআই আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএসও মান অনুসরণের পাশাপাশি বাংলাদেশ মানও (দেশি মান) নির্ধারণ করে। আইএসও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে মান নির্ধারণ করে। আর বিএসটিআইকে আবহাওয়া, ক্রেতাসহ এ দেশের অনেক বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করতে হয়। তবে দেশীয় পণ্যেরও আইএসও মান অনুসরণ করা হয়।

নির্ধারিত মান মেনে পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাত বাধ্যতামূলক। এটি যথাযথভাবে পরিপালিত না হলে ভোক্তারা প্রতারিত হতে পারেন। তাই শুধু মান সনদ দিলেই হবে না, সেই সঙ্গে ওই মান সনদ সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তার নজরদারিও বাড়ানো প্রয়োজন।

মান নিয়ন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য হলো, ভোক্তারা যেন প্রতারিত না হন এবং সঠিক পণ্য কিনতে পারেন। অথচ দেখা যায়, বিএসটিআই থেকে মান সনদ নিলেও উৎপাদনে তা ঠিকমতো অনুসৃত হয় না। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বিএসটিআইয়ের মান সনদ ছাড়া জ্বালানি তেল বিপণন বিপিসির’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ভোক্তারা হতাশই হবেন বৈকি।

প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন জ্বালানি পণ্য বিক্রি করে। এর মধ্যে ৪০ লাখ টন ডিজেল। অথচ এ জ্বালানি পণ্যের মান সনদ নেই। বিপিসির বিক্রীত অকটেন, পেট্রোল, জেট ফুয়েল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েল প্রভৃতিরও মান সনদ নেই। ভোক্তা ও ব্যবহারকারীরা বিপিসির তেলের মান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলছেন নিয়মিত ঠকছেন তারা। রাষ্ট্রীয় সংস্থার এমন আচরণ সম্পূর্ণ অপ্রতাশিত। বিএসটিআইর তথ্যমতে, কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টগুলো থেকে জ্বালানি নেয়ার ক্ষেত্রে অকটেনের আরওএন মান ন্যূনতম ৯৫, পেট্রোলের আরওএন মান ৮৭, ডিজেলের সিটান মান ৪৬ ও কেরোসিনের মান হবে ৩৫। এ মানের বেসরকারি রিফাইনারিগুলোতে জ্বালানি পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা নেই। ফলে গত বছরের জুলাই থেকে বন্ধ আছে বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

জ্বালানি তেল ব্যবহারকারীদের ভাষ্য, সারাদেশে প্রায় দুই হাজার ৬০০টি পেট্রোল পাম্প আছে। এসব পাম্পে মানহীন জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে বিপিসি। বাধ্যবাধকতা থাকলেও পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের মান সনদ গ্রহণ করছে না সংস্থাটি। মান সনদ নিলে নিশ্চিত হতো জ্বালানির মান। কিন্তু মান নিশ্চিত করার জন্য আগ্রহ নেই বিপিসির। এতে জনসাধারণ, বিশেষত গাড়ি ব্যবহারকারী ও কৃষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আর একটি সরকারি সংস্থা হয়ে কীভাবে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই যখন জাতীয় মান সংস্থার নির্ধারিত মান উপেক্ষা করে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সুযোগ পায়। সবক্ষেত্রে মান নিশ্চিত করা গেলেই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব এবং নাগরিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..