সারা বাংলা

জয়পুরহাটের পাঁচ উপজেলায় নির্বাচন আজ

প্রতিনিধি, জয়পুরহাট: প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে আজ। নির্বাচন শুরুর পর অসময়ের বৃষ্টিতে ব্যানার পোস্টার নষ্ট হলেও নতুন করে তা টানানোর আগ্রহ নেই প্রার্থীদের। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতেও আগ্রহ নেই ভোটারদের। ভোটের কোনো আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না জেলার ভোটারদের মধ্যে।
জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলায় ভোটার সংখ্যা সাত লাখ ছয় হাজার ৬৮৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ তিন লাখ ৫০ হাজার ৭৩১ এবং মহিলা তিন লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৬ জন। জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে দুটিতে চেয়ারম্যান পদে কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই প্রার্থী। তাদের মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছেন এসএম সোলায়মান আলী এবং পাঁচবিবিতে মনিরুল শহীদ। এ দুই উপজেলায় ভাইস ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আটজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২২ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কালাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের মিনফুজুর রহমানের সঙ্গে জাসদের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জহুরুল ইসলাম, ক্ষেতলাল উপজেলায় আওয়ামী লীগের মোস্তাকিম মণ্ডল সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী তাইফুল ইসলাম তালুকদার এবং আক্কেলপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মোখছেদ আলীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুস ছালাম আকন্দ ও জাসদের আবুল খায়ের মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অংশগ্রহণ করেননি।
কালাই উপজেলার ভ্যানচালক মজিবর রহমান, চাতাল ব্যবসায়ী কামরুল হাসান ও স্থানীয় এনজিও কর্মী মোস্তাক আহম্মেদ জানান, আগে এ ধরনের নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট চাইতেন। কিন্তু এবার কোনো প্রার্থীকে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে দেখা যায়নি।
ক্ষেতলাল উপজেলার মুন্দাইল গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন জানান, এমপির ভোটে ভোট দিতে পারেননি। এবার কি হবে তা আসলে ভোটের দিনেই বোঝা যাবে। পরিবেশ-পরিস্থিতি ভালো হলে কেন্দ্রে যাবেন।
এদিকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে পাঁচ উপজেলার ২৮৭টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলাগুলো হলোÑজয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল, কালাই ও আক্কেলপুর। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৮৭টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনছার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..