প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

জয়পুরহাটে আলুক্ষেতে নাবিধসা রোগের প্রকোপ

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জয়পুরহাটের আলুক্ষেতগুলোয় দেখা দিয়েছে নাবিধসা রোগ। বার বার কীটনাশক প্রয়োগ করেও রক্ষা করা যাচ্ছে না আলুগাছ। ফলে কীটনাশকের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কৃষক। খবর বাংলা ট্রিবিউন।

জেলা সদর, কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষকরা জানান, আলুক্ষেতে নাবিধসা রোগে আক্রান্ত গাছগুলোর ওপরের পাতা ঠিক থাকলেও গোড়া পচে যাচ্ছে। কোনো গাছে এ রোগ দেখা দিলে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে গোটা ক্ষেতে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও ঠেকানো যাচ্ছে না এ রোগের আক্রমণ। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্ত ক্ষেতে কীটনাশক দিয়েও রোগ সারানো যাচ্ছে না। চড়ামূল্যে বীজ সংগ্রহের পর সার ও কীটনাশকের জন্য বাড়তি খরচ করায় আলু চাষ করে এ বছর লোকসানের আশঙ্কা করছেন জয়পুরহাটের কৃষক।

কালাই উপজেলার কাথাইল গোপীনাথপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব হোসেন (মাস্টার) জানান, তিনি এ বছর ৩০ বিঘা জমিতে গ্র্যানুলা, অ্যাস্টেরিক, ডায়মন্ড ও ক্যারেজ জাতের আলু লাগিয়েছেন। গাছের বয়স হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ দিন। ক্ষেতে ব্যাপকহারে রোগ দেখা দেওয়ায় দুবার কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দামের এ ওষুধ তিন দিন পরপর ক্ষেতে দিতে হচ্ছে। ওষুধের দাম বেশি হলেও বাজারে আলুর দাম নেই।

ক্ষেতলাল উপজেলার জামুহালি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ছয় বিঘা জমিতে তিনবার ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছেন না। কোনো ওষুধেই কাজ হচ্ছে না। সাগরামপুর গ্রামের মোনায়েম সরকারও একই অভিযোগ করেন। আক্কেলপুর উপজেলার সোনাই মাগুড়া গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল জানান, প্রথমে বিএডিসির অ্যাস্টেরিক জাতের বীজ বেশি খরচে কিনে চার বিঘা জমিতে লাগিয়েছেন। গাছ ভালো হলেও রোগ দেখা দেওয়ায় ওষুধ দিয়েছেন কয়েকবার। তবুও গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান জয়পুরহাট সদর উপজেলার কোমরগ্রাম মাঠের কৃষক আবদুল জলিল।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৪২ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম আলু চাষ হয়েছে ১০ হাজার হেক্টরে। এবার জেলায় সাড়ে আট লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতিমণ আলু ৯০০ থেকে হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ক্রমাগত কমতে থাকে আলুর দাম। জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট, জামালগঞ্জ বাজারসহ এলাকার বিভিন্ন আলু ক্রয়কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পাইকারি বাজারে গ্র্যানুলা জাতের আলু প্রতিমণ ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা এবং প্যাকরি (গুটি) ও ক্যারেজ জাতের লাল আলু ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দিন দিন আলুর দাম কমছে। ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোলা বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান চৌধুরী জানান, আলুতে রোগবালাইয়ের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কীটনাশক ও ওষুধ বেশি বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা কেউ তাদের পরামর্শ নিচ্ছেন, আবার কেউ প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ কিনছেন। তবে অধিকাংশ কৃষকই কীটনাশক প্রয়োগ করে কোনো কাজ হচ্ছে না বলে তাকে জানিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) আবু হোসেন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া কিছুটা খারাপ। মাঠকর্মীরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের পরামর্শে কৃষকরা ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করায় মাঠে এখন আলুগাছ অনেক ভালো আছে।