আজকের পত্রিকা সারা বাংলা

জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়ক বেহাল

শামীম কাদির, জয়পুরহাট: জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে ২৪ ফুট প্রশস্তকরণের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৯৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার কাজ চলমান অবস্থায় মাঝপথে এসে থেমে গেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সড়কের দুই পাশে গর্ত এবং পিচ ঢালাই কার্পেটিংয়ের পাথর তুলে ফেলেছে। ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটারের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১০ কিলোমিটার সড়কে নতুন করে বালি, খোয়া ও পাথর দিয়েছে এবং ১৫ কিলোমিটার সড়কে এখনও কাজ শুরু হয়নি। অথচ এ সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুন মাসে।
প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের প্রায় আট জেলার যানবাহন চলাচল করছে এ সড়ক দিয়ে। এছাড়া হিলি স্থলবন্দর থেকে অতিরিক্ত লোড নিয়ে প্রতিদিন শত শত পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচল করতে গিয়ে খাদা-খন্দকে পরিণত হয়েছে সড়কটি। অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বেহাল অবস্থায় এ মহাসড়ক হয়ে চলাচল করতে পথচারীসহ যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ও পাথরবোঝাই ট্রাককে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। জুনে সড়কের কাজ শেষ হওয়া তো দূরের কথা, আগামী এক বছরেও কাজ শেষ করতে পারে কি না, এমন প্রশ্নই এলাকাবাসীর। তাদের দাবি, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই যেন সড়কের কাজ শেষ হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ কিলোমিটার জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের দু’ধারে ২৪ ফুট প্রশস্তকরণের জন্য গত ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল একনেক সভায় ১৯৪.৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। ১০ কিলোমিটার করে তিনটি প্যাকেজে টেন্ডার হয় সড়কের কাজ। প্যাকেজ তিনটি মোকামতলা থেকে পুনট, পুনট থেকে মাটির ঘর এবং মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত। পুনট থেকে মাটির ঘর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের কাজ পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান র‌্যাব-আরসি লিমিটেড এবং মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্স। ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে এ প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। এ অংশের কাজ শেষ হবে চলতি বছরের জুন মাসে। মোকামতলা থেকে পুনট এবং মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত এ দুই প্যাকেজের কাজ পায় নাভানা গ্রুপ। তাদের কাজও শেষ হওয়ার কথা একই সময়ে।
শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠাগুলো ধীরগতিতে এ সড়কের কাজ করেছে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। নাভানা গ্রুপ মোকামতলা-পুনট পর্যন্ত ইট-পাথর দিলেও কার্পেটিং করেনি। তারা মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত এখনও কাজ শুরুই করেননি। শুধু দুই পাশে ২৪ ফুট প্রশস্তের জন্য গর্ত খুঁড়ে ফেলে রেখেছে।
র‌্যাব-আরসি লিমিটেড এবং মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্স পুনট থেকে মাটির ঘর পর্যন্ত সড়কের অর্ধেক কার্পেটিং করেছে। বাকি অর্ধেক কালাই পৌর শহর থেকে পুনট পর্যন্ত ইটের খোয়া ফেলেছে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের ইটের খোয়া সম্প্রতি দু’দিনের বৃষ্টির পানি ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গলে গেছে এবং বড় বড় গর্ত হয়ে হাঁটু পানি জমেছে। গত দুই মাস ধরে ওই সড়কের কাজ পুরোদমে বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্সের অস্থায়ী অফিস বালাইট মোড়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে দেখা হয় ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে। কাজ বন্ধ থাকার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, ঠিকাদার নিজেই কাজ বন্ধ রেখেছে।
সরেজমিন গিয়ে পথচারী হামিদুল ইসলাম, ট্রাকচালক জোবায়ের হোসেন ও দূরপাল্লার কোর্চ চালক সামিম হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় তারা জানান, গত দেড় বছর ধরে এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে এ সড়কে। পাঁচজন লোকও মারা গেছে। বর্তমানে সড়কের যে অবস্থা, তাতে যে কোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। বর্ষার আগ মুহূর্তে দ্রুত এ সড়কের কাজ সমাপ্ত করতে তারা দাবি করেন।
জয়পুরহাট মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় আটটি জেলায় যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়ক হিসেবে ব্যবহƒত হয় সড়কটি। দূরপাল্লার কোচ, আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস এবং পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে এ পথে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের হুশিয়ারি সংকেত দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ সমাপ্ত না হলে অচিরে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
র‌্যাব-আরসি লিমিটেড এবং মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্সের পক্ষে সড়কের কাজ দেখভালের দায়িত্বে নিয়জিত মাজেদুর রহমান বলেন, অর্থ সংকটের কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ আছে। অর্থ পেলেই দ্রুত কাজ চালু করা হবে।
র‌্যাব-আরসি লিমিটেড এবং মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী খন্দকার তাইজুল ইসলামের সঙ্গে কাজ বন্ধের বিষয়ে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়ায় সম্ভব হয়নি।
জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভির সিদ্দিক বলেন, একটি প্যাকেজের কাজ সাময়িক বন্ধ আছে। অন্য দুটি প্যাকেজের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। যেভাবেই কাজ করুক না কেন, চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করতে হবে। বড় বড় গর্ত হয়ে পানি জমে আছে এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কে জমানো পানি সরানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..